মুহম্মদ শফিকুর রহমান
সেই অর্ধশতাব্দীরও আগের কথা, প্রাথমিকের বেড়া ডিঙ্গিয়ে মাধ্যমিকে আসা-যাওয়া করছি। তারচেয়েও বেশি ভালো লাগে খেলাধুলা, বন্ধুদের সাথে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো (এখন অবশ্য বন-বাদাড় বলে কিছু নেই)। দস্যু মোহন সিরিজের বই পড়তেও ভালো লাগত।
তখনো রাজনীতি বুঝি না। তবে বড়রা যখন রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতেন, তর্কে অবতীর্ণ হতেন তখন কখনো কখনো মজা পেতাম। একদল মুসলিম লীগের কথা বলতেন, আরেকদল আওয়ামী লীগের। আমরা তাদের তর্কাতার্কিতে জড়াতাম না। মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। যারা মুসলিম লীগের পক্ষে ছিল তারা কিছু নাম উচ্চারণ করতেন যেমন মুুহম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, আল্লামা ইকবাল, খান এ সবুর খান, ফ.কা. চৌধুরী প্রমুখ। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মুখে শুনতাম শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, সি আর দাশ, নেতাজী সুভাষ বসু এদের নাম। আরেকদল ছিল যারা আওয়ামী লীগ মুসলিম লীগ কোনটাকেই পছন্দ করতেন না তাদের মুখে শোনতাম কমরেড় মণি সিং, কমরেড় মুজাফফর আহমদ। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এদের নাম। এরা নাকি কম্যুনিষ্ট। এঁরা যেমন ছিল ব্রিটিশ বোনিয়াদের শত্রু তেমনি পাকিদেরও চক্ষুশূল। কাজেই তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারত না। (আন্ডারগ্রাউন্ড) আত্মগোপনেই থাকতে হতো বেশিরভাগ সময়।
তখন আন্ডারগ্রাউন্ড মানে বুঝতাম মাটির নিচে বসবাস। একবার তো একজনকে জিজ্ঞেসই করেছিলাম মাটির নিচের ঘরগুলো কেমন? তিনি সিদ্দিক সরকার। আমাদের পাশের গ্রামের মানুষ। এক সময় স্বদেশী করেছেন। নেতাজীর ভীষণ ভক্ত। নেতাজী যখন ভারতের স্বাধীনতার জন্য আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করলেন তখন আমাদের সিদ্দিক সরদারও তাতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন যুদ্ধ করার জন্য। কিন্তু নেতাজী অন্তধান হলেন বা প্লেন-ক্রাশে মারা গেলেন তখন অসহায় হয়ে পড়লেন এবং আমাদের সিদ্দিক সরদার কলকাতা ছেড়ে নিজগ্রাম চাঁদপুরের বাড়িতে আত্মগোপন করলেন। প্রথম প্রথম বাড়ি থেকে খুব একটা বের হতেন না। ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের পর আর ভয় রইল না। সিদ্দিক সরদারও প্রকাশ্যে বের হতে শুরু করলেন। তাঁর কাছ থেকেই প্রথম জানলাম নেতাজীর কথা। আরো পরে যখন কলেজে পা রাখলাম তখন সিদ্দিক চাচা একদিন বললেন, নেতাজী তো চলে গেলেন, তোমাদেরও একজন নেতাজী তৈরি হচ্ছেন এবং পাকিস্তান কাঁপাবেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সিদ্দিক চাচার কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে কিন্তু ততদিনে তিনি এ জীবনের মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন।
দুই.
সিদ্দিক সরদার অর্থাৎ সিদ্দিক চাচার কাছে কমিউনিস্টদের কথা বেশি শুনেছিলাম। কিভাবে তারা অকাতরে প্রাণ দিতে পারে। তাঁর কাছ থেকে টহফবৎমৎড়ঁহফ এর ধারণাও পরিষ্কার হই। তিনি নিজেও বহুবার টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ গেছেন। আমাদের বাংলাদেশেও কমিউনিস্টরা তৎকালে হয় জেলে নয়ত টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ কাটাতে হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার সময় থেকে বিশেষ করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কমিউনিস্টরা প্রকাশ্যে চলে আসেন এবং প্রকাশ্য রাজনীতি করতে শুরু করেন। কমরেড মণি সিংকেও আমি প্রথম দেখলাম স্বাধীনতার পর। আমার ধারণা ছিল টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ থাকতে থাকতে রোগা হয়ে গেছেন, চেহারায় অকাল বার্ধক্যের ছাপ থাকবে, কিন্তু না, জমিদারি রক্তের সেই সৌম্যকান্তি এতটুকু মলিন হয়নি। ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন কমরেড মণি সিং। জীবনের বেশিরভাগ সময় পাকি-পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাশিয়ার মতো সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ার রাজনীতি করেছেন। কিন্তু কোনদিন বোরখা পরেছেন এমন তথ্য কেউ দিয়েছেন বলে শুনিনি। বরং তারা যতদিন পেরেছেন অর্থাৎ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলে একদিন এক ঠিকানায় তো পরদিন অন্য ঠিকানায় কাটিয়েছেন। এভাবে হয়ত একদিন গ্রেফতারও হয়েছেন। তারচে বড় কথা কমিউনিস্টরা ভীতু ছিলেন না। তাদের কেউ কেউ আগ্নেয়াস্ত্রও বহন করতেন। ধরা পড়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও শুনেছি। কেউ কেউ ধরা পড়ার মুহূর্তে নিজের মাথায় গুলি করে বা সায়ানাইড খেয়ে জীবন দিয়েছেন বলেও শুনেছি, কিন্তু আমাদের মির্জা-০ মওদুদ-মোশারফদের মতো গ্রেফতার এড়ানোর জন্য বোরখা পরেছেন বলে শুনিনি। (পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী)।
তিন.
তখন দৈনিক ইত্তেফাকে একরাতে অফিসে বসে কাজ করছিলাম। এক কমিউনিস্ট নেতা টেলিফোনে আমাকে চাইলেন (তখন সেল ফোন ছিল না)। টেলিফোন ধরে কণ্ঠস্বর শুনেই চিনতে পারলাম। বললেন, ‘শফিক আমি টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ আছি, (নামটা ইচ্ছে করে বললাম না, বললে অধিকাংশ পাঠকই চিনে ফেলবেন এবং আজকের অর্বাচীন রাজনীতিক বা তথাকথিত সিভিল সোসাইটির আন্দারগাহরা ঠাট্টা মশকারী করবেন) বললেন, ‘বড় ধরনের কোন খবর হলে আমাকে জানিও, এই বলে তিনি একটা টেলিফোন নম্বর দিলেন। পরে জেনেছি ঐ টেলিফোন নম্বরটি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির, যাকে পুলিশের সন্দেহ করার কোন কারণ ছিল না।
এই ছিল সেকালের কমিউনিস্টদের টহফবৎমৎড়ঁহফ করার ধরন। তারা জীবন বাঁচাতে বা কারাগার এড়াতে। টহফবৎমৎড়ঁহফ করেননি করছেন পার্টি ও রাজনীতির স্বার্থে। আমি যার কথা বললাম তিনি জীবন ধারণ করেছেন পত্রিকায় ছদ্মনামে কলাম লেখে। বৈরাগ্য জীবন ছিল তার। আজকের নেতারা তো টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ থাকতে পারবেন না, কারণ তারা যে ধরনের রাজসিক জীবন যাপন করেন সে কারণেই তাদের করাগারেও যাওয়া যাবে না, টহফবৎমৎড়ঁহফ-এও নয়। তাই করাগার এড়াতে বোরখা পরতেই হবে।
আরেকজনের টহফবৎমৎড়ঁহফ-এর কথা শুনেছি, তিনি আমাদের প্রখ্যাত সাংবাদিক-কলামিস্ট সন্তোষ গুপ্ত। পার্টি করতেন তাই পার্টির অর্থাৎ গোপন কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগাারে অফিস সহকারীর চাকরি নিয়েছেন। তাঁর কাজ ছিল করাগারে আটক কমিউনিস্টদের সাথে দলের খবরাখবর আদান-প্রদান করা। বেশ কয়েক বছর চাকরি করার পর একদিন ধরা পড়ে গেলেন গোয়েন্দাদের হাতে। গোয়েন্দারা কারাগারের অফিসে গিয়ে যখন সন্তোষ গুপ্ত মানে আমাদের সন্তোষ দাকে হাতকড়া পরালেন তখন জেলারের উক্তি ছিল ‘সন্তোষ তুমিও’ (এসব তথ্য অগ্রজদের কাছে শোনা)।
চার.
এবার মূল কথায় আসি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত (ভারাক্রান্ত) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্য গত বৃহস্পতিবার (১০-৫-২০১২) দৈনিক যুগান্তরে ছাপা হয়েছে। তিনি বলেছেন ‘গান্ধী-শেখ মুজিবও বিভিন্ন সময় আত্মগোপন করেছিলেন’Ñ এটি ছিল শিরোনাম। তাদের ডাকা হরতালের আগের সন্ধ্যায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির বিজভীর পরিবারের সাথে দেখা করতে যেয়ে একথা বলেছেন। তার সাথে সাংবাদিকও ছিলেন এবং তারা এ সংবাদটি পরিবেশন করেছেন।
প্রথমত যে কথাটি বলতে চাই তা হলো রিজভীর প্রমোশন হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়া উচিত। কারণ তিনি গ্রেফতার এড়াতে বোরখা পরে হাইকোর্টে যাননি জামিনের জন্য।
দ্বিতীয়ত: মির্জা বলেছেন, ‘যুগে যুগে রাজনৈতিক নেতারা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি মোকাবিলায় গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল নিয়েছেনÑ এমন নজির অনেক রয়েছে। মাহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে শেখ মুজিবুর রহমান পর্যন্ত অনেকেই বিভিন্ন সময়ে আত্মগোপন করেছেন।’ তিনি অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলব না। কিন্তু একটা প্রশ্ন রাখতে পারি ‘গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল নিশ্চয়ই বোরখা পরা নয় এবং মির্জা ফখরুল সাহেব কি একটা তথ্য দিতে পারবেন যে মহাত্মা গান্ধী বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একবারের জন্য বোরখা পরেছেন? দিতে পারবেন না। তাহলে এমন উদাহরণ দেয়া মোটেই সমীচীন নয়।
বরং আমরা জানি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নবম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রথম করাবরণ করেন। তখন তিনি গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তারপর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন-বিভাগে ভর্তি হবার পর থেকে ঊনসত্তরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি এবং একাত্তরে পাকিস্তানের কারাগারে তার জন্য কবর পর্যন্ত খোড়া হয়েছিল একটিবারের জন্য কি তিনি গ্রেফতারের ভয়ে ভীত হয়েছিলেন? বরং তার জ্যেষ্ঠকন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার একটা দায়িত্ব ছিল তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ঘরে ফেরার সাথে সাথে পরিধেয় ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র দিয়ে আরেকটি শ্যুটকেস সাজিয়ে রাখা। কারণ কারাগার থেকে তিনি ঘরে ফিরেছেন, পেছনে পেছনে আরেক দল গোয়ান্দা ঘরে ঢুকেছেন অনেক সময় এক কাপ চা খাবার সময়ও পাননি।
গ্রেফতার-কারাগার এসব তো রাজনীতির কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। যে কারণে বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখলেন “কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট...”। আমরা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের কথাও জানি কিভাবে জীবন দিয়েছেন তবু ব্রিটিশের কাছে ধরা দেননি। অবশ্য তাদের সাথে আজকের মির্জা-মওদুদদের তুলনা চলে না, করছিও না।
তৃতীয়ত, যে ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান নিয়ে এত হরতাল এত গাড়ি পোড়ানো, গাড়িতে ঘুমন্ত চালকসহ গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, মামলা হওয়ায় নেতাদের বোরখা পরে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেয়া, সে ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান কেউ কি সমর্থন করেন? না করেছেন? কেউ করেননি। করছেন না। বরং সবাই চায় ইলিয়াস আলী সুস্থ দেহে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসুন। একটা সময় ছিল যখন অভি-ইলিয়াস, নিরু-বাবলু, লিয়াকত-হান্নান-আওরঙ্গ এমনি বেশকিছু নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কাঁপিয়েছে। তার মধ্যে এক ইলিয়াস আলী ছাড়া অন্যরা কে কোথায় আছে জানি না। ইলিয়াস আলী নিজেও যোগ্যতাবলে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট জেলা সভাপতি হয়েছেন। শোনা যায় তিনি সিলেটে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে যেমন মাতব্বরী করতে দেননি তেমনি সাইফুর রহমানের মতো নেতাকেও বেঁচে থাকতে সিলেটে ঢুকতে দেননি। এইভাবে ইলিয়াস আলী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার স্ত্রীও বলেছেন, ‘ইলিয়াস আলী রাজনীতি করতেন এবং রাজনৈতিক কারণেই তিনি অপহৃত হয়েছেন।’ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে দেখা করতে গেলে বুকে জড়িয়ে বলেছেন, ‘মানবিকতা রাজনীতের উর্ধে। সরকার ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
কিন্তু আমাদের জাতিরই বোধহয় দুর্ভাগ্য। এত বড় একটা ঘটনা ঘটল পুলিশ বা পুলিশের তাবৎ গোয়েন্দা বাহিনী আজতক কোন ‘ক্লু’ বের করতে পারলেন না। পারলেন না সাগর-রুনীর হত্যা বা সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্র্তা হত্যার ক্লু বের করতে। অতীতের কিবরিয়া হত্যাকা-ের কি হলো বা ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা ও আইভি রহমানসহ হতাহতের ঘটনারও তো কোন সুরাহা হলো না। আগে শুনেছি পুলিশের দায়িত্ব পালন করার মতো লজিস্টিকস নেই, এখন তো সেই ‘নেই’ ‘আছে’ হয়ে গেছে। এমনকি মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতিরা যে গাড়ি পান না পুলিশের অফিসাররা তা পাচ্ছেন। তবু কেন কোন ঘটনার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? (পুলিশের ঘুষের কথা নাইবা বললাম)।
চতুর্থত, একটি প্রশ্ন করতে চাই আপনারা হরতাল করুন, মিছিল সমাবেশ করুন, কিন্তু হরতালের আগের সন্ধ্যায়-রাতে গাড়ি পোড়ানো বা হরতালের সময় গাড়িভাঙ্গা টেলিভিশনে দেখা) এসব কোন্ গণতান্ত্রিক রাজনীতি? বলবেন, আপনারা তো, মানে নেতারা গাড়ি পোড়াননি। তবে যারা পোড়াচ্ছে ভাঙছে তারা তো আপনাদেরই কর্মী, এদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাটা নেতৃত্বের ব্যর্থতা নয় কি? ঠিক বোরখা পরার মতো।
আর বোরখা পরতে হলে ভেবে পরবেন। এই বোরখা পরে সন্ত্রাসীরা তাদের সন্ত্রাসী কাজ করে, মাদক পাচারকারীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পাচার করে (এমনি অনেক খবর শুনেছি)।
ঢাকা-১১ মে ২০১২
লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
তখনো রাজনীতি বুঝি না। তবে বড়রা যখন রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতেন, তর্কে অবতীর্ণ হতেন তখন কখনো কখনো মজা পেতাম। একদল মুসলিম লীগের কথা বলতেন, আরেকদল আওয়ামী লীগের। আমরা তাদের তর্কাতার্কিতে জড়াতাম না। মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। যারা মুসলিম লীগের পক্ষে ছিল তারা কিছু নাম উচ্চারণ করতেন যেমন মুুহম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, আল্লামা ইকবাল, খান এ সবুর খান, ফ.কা. চৌধুরী প্রমুখ। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মুখে শুনতাম শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, সি আর দাশ, নেতাজী সুভাষ বসু এদের নাম। আরেকদল ছিল যারা আওয়ামী লীগ মুসলিম লীগ কোনটাকেই পছন্দ করতেন না তাদের মুখে শোনতাম কমরেড় মণি সিং, কমরেড় মুজাফফর আহমদ। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এদের নাম। এরা নাকি কম্যুনিষ্ট। এঁরা যেমন ছিল ব্রিটিশ বোনিয়াদের শত্রু তেমনি পাকিদেরও চক্ষুশূল। কাজেই তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারত না। (আন্ডারগ্রাউন্ড) আত্মগোপনেই থাকতে হতো বেশিরভাগ সময়।
তখন আন্ডারগ্রাউন্ড মানে বুঝতাম মাটির নিচে বসবাস। একবার তো একজনকে জিজ্ঞেসই করেছিলাম মাটির নিচের ঘরগুলো কেমন? তিনি সিদ্দিক সরকার। আমাদের পাশের গ্রামের মানুষ। এক সময় স্বদেশী করেছেন। নেতাজীর ভীষণ ভক্ত। নেতাজী যখন ভারতের স্বাধীনতার জন্য আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করলেন তখন আমাদের সিদ্দিক সরদারও তাতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন যুদ্ধ করার জন্য। কিন্তু নেতাজী অন্তধান হলেন বা প্লেন-ক্রাশে মারা গেলেন তখন অসহায় হয়ে পড়লেন এবং আমাদের সিদ্দিক সরদার কলকাতা ছেড়ে নিজগ্রাম চাঁদপুরের বাড়িতে আত্মগোপন করলেন। প্রথম প্রথম বাড়ি থেকে খুব একটা বের হতেন না। ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের পর আর ভয় রইল না। সিদ্দিক সরদারও প্রকাশ্যে বের হতে শুরু করলেন। তাঁর কাছ থেকেই প্রথম জানলাম নেতাজীর কথা। আরো পরে যখন কলেজে পা রাখলাম তখন সিদ্দিক চাচা একদিন বললেন, নেতাজী তো চলে গেলেন, তোমাদেরও একজন নেতাজী তৈরি হচ্ছেন এবং পাকিস্তান কাঁপাবেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সিদ্দিক চাচার কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে কিন্তু ততদিনে তিনি এ জীবনের মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন।
দুই.
সিদ্দিক সরদার অর্থাৎ সিদ্দিক চাচার কাছে কমিউনিস্টদের কথা বেশি শুনেছিলাম। কিভাবে তারা অকাতরে প্রাণ দিতে পারে। তাঁর কাছ থেকে টহফবৎমৎড়ঁহফ এর ধারণাও পরিষ্কার হই। তিনি নিজেও বহুবার টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ গেছেন। আমাদের বাংলাদেশেও কমিউনিস্টরা তৎকালে হয় জেলে নয়ত টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ কাটাতে হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার সময় থেকে বিশেষ করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কমিউনিস্টরা প্রকাশ্যে চলে আসেন এবং প্রকাশ্য রাজনীতি করতে শুরু করেন। কমরেড মণি সিংকেও আমি প্রথম দেখলাম স্বাধীনতার পর। আমার ধারণা ছিল টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ থাকতে থাকতে রোগা হয়ে গেছেন, চেহারায় অকাল বার্ধক্যের ছাপ থাকবে, কিন্তু না, জমিদারি রক্তের সেই সৌম্যকান্তি এতটুকু মলিন হয়নি। ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন কমরেড মণি সিং। জীবনের বেশিরভাগ সময় পাকি-পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাশিয়ার মতো সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ার রাজনীতি করেছেন। কিন্তু কোনদিন বোরখা পরেছেন এমন তথ্য কেউ দিয়েছেন বলে শুনিনি। বরং তারা যতদিন পেরেছেন অর্থাৎ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলে একদিন এক ঠিকানায় তো পরদিন অন্য ঠিকানায় কাটিয়েছেন। এভাবে হয়ত একদিন গ্রেফতারও হয়েছেন। তারচে বড় কথা কমিউনিস্টরা ভীতু ছিলেন না। তাদের কেউ কেউ আগ্নেয়াস্ত্রও বহন করতেন। ধরা পড়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও শুনেছি। কেউ কেউ ধরা পড়ার মুহূর্তে নিজের মাথায় গুলি করে বা সায়ানাইড খেয়ে জীবন দিয়েছেন বলেও শুনেছি, কিন্তু আমাদের মির্জা-০ মওদুদ-মোশারফদের মতো গ্রেফতার এড়ানোর জন্য বোরখা পরেছেন বলে শুনিনি। (পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী)।
তিন.
তখন দৈনিক ইত্তেফাকে একরাতে অফিসে বসে কাজ করছিলাম। এক কমিউনিস্ট নেতা টেলিফোনে আমাকে চাইলেন (তখন সেল ফোন ছিল না)। টেলিফোন ধরে কণ্ঠস্বর শুনেই চিনতে পারলাম। বললেন, ‘শফিক আমি টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ আছি, (নামটা ইচ্ছে করে বললাম না, বললে অধিকাংশ পাঠকই চিনে ফেলবেন এবং আজকের অর্বাচীন রাজনীতিক বা তথাকথিত সিভিল সোসাইটির আন্দারগাহরা ঠাট্টা মশকারী করবেন) বললেন, ‘বড় ধরনের কোন খবর হলে আমাকে জানিও, এই বলে তিনি একটা টেলিফোন নম্বর দিলেন। পরে জেনেছি ঐ টেলিফোন নম্বরটি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির, যাকে পুলিশের সন্দেহ করার কোন কারণ ছিল না।
এই ছিল সেকালের কমিউনিস্টদের টহফবৎমৎড়ঁহফ করার ধরন। তারা জীবন বাঁচাতে বা কারাগার এড়াতে। টহফবৎমৎড়ঁহফ করেননি করছেন পার্টি ও রাজনীতির স্বার্থে। আমি যার কথা বললাম তিনি জীবন ধারণ করেছেন পত্রিকায় ছদ্মনামে কলাম লেখে। বৈরাগ্য জীবন ছিল তার। আজকের নেতারা তো টহফবৎমৎড়ঁহফ-এ থাকতে পারবেন না, কারণ তারা যে ধরনের রাজসিক জীবন যাপন করেন সে কারণেই তাদের করাগারেও যাওয়া যাবে না, টহফবৎমৎড়ঁহফ-এও নয়। তাই করাগার এড়াতে বোরখা পরতেই হবে।
আরেকজনের টহফবৎমৎড়ঁহফ-এর কথা শুনেছি, তিনি আমাদের প্রখ্যাত সাংবাদিক-কলামিস্ট সন্তোষ গুপ্ত। পার্টি করতেন তাই পার্টির অর্থাৎ গোপন কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগাারে অফিস সহকারীর চাকরি নিয়েছেন। তাঁর কাজ ছিল করাগারে আটক কমিউনিস্টদের সাথে দলের খবরাখবর আদান-প্রদান করা। বেশ কয়েক বছর চাকরি করার পর একদিন ধরা পড়ে গেলেন গোয়েন্দাদের হাতে। গোয়েন্দারা কারাগারের অফিসে গিয়ে যখন সন্তোষ গুপ্ত মানে আমাদের সন্তোষ দাকে হাতকড়া পরালেন তখন জেলারের উক্তি ছিল ‘সন্তোষ তুমিও’ (এসব তথ্য অগ্রজদের কাছে শোনা)।
চার.
এবার মূল কথায় আসি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত (ভারাক্রান্ত) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্য গত বৃহস্পতিবার (১০-৫-২০১২) দৈনিক যুগান্তরে ছাপা হয়েছে। তিনি বলেছেন ‘গান্ধী-শেখ মুজিবও বিভিন্ন সময় আত্মগোপন করেছিলেন’Ñ এটি ছিল শিরোনাম। তাদের ডাকা হরতালের আগের সন্ধ্যায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির বিজভীর পরিবারের সাথে দেখা করতে যেয়ে একথা বলেছেন। তার সাথে সাংবাদিকও ছিলেন এবং তারা এ সংবাদটি পরিবেশন করেছেন।
প্রথমত যে কথাটি বলতে চাই তা হলো রিজভীর প্রমোশন হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়া উচিত। কারণ তিনি গ্রেফতার এড়াতে বোরখা পরে হাইকোর্টে যাননি জামিনের জন্য।
দ্বিতীয়ত: মির্জা বলেছেন, ‘যুগে যুগে রাজনৈতিক নেতারা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি মোকাবিলায় গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল নিয়েছেনÑ এমন নজির অনেক রয়েছে। মাহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে শেখ মুজিবুর রহমান পর্যন্ত অনেকেই বিভিন্ন সময়ে আত্মগোপন করেছেন।’ তিনি অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলব না। কিন্তু একটা প্রশ্ন রাখতে পারি ‘গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল নিশ্চয়ই বোরখা পরা নয় এবং মির্জা ফখরুল সাহেব কি একটা তথ্য দিতে পারবেন যে মহাত্মা গান্ধী বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একবারের জন্য বোরখা পরেছেন? দিতে পারবেন না। তাহলে এমন উদাহরণ দেয়া মোটেই সমীচীন নয়।
বরং আমরা জানি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নবম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রথম করাবরণ করেন। তখন তিনি গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তারপর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন-বিভাগে ভর্তি হবার পর থেকে ঊনসত্তরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি এবং একাত্তরে পাকিস্তানের কারাগারে তার জন্য কবর পর্যন্ত খোড়া হয়েছিল একটিবারের জন্য কি তিনি গ্রেফতারের ভয়ে ভীত হয়েছিলেন? বরং তার জ্যেষ্ঠকন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার একটা দায়িত্ব ছিল তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ঘরে ফেরার সাথে সাথে পরিধেয় ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র দিয়ে আরেকটি শ্যুটকেস সাজিয়ে রাখা। কারণ কারাগার থেকে তিনি ঘরে ফিরেছেন, পেছনে পেছনে আরেক দল গোয়ান্দা ঘরে ঢুকেছেন অনেক সময় এক কাপ চা খাবার সময়ও পাননি।
গ্রেফতার-কারাগার এসব তো রাজনীতির কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। যে কারণে বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখলেন “কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট...”। আমরা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের কথাও জানি কিভাবে জীবন দিয়েছেন তবু ব্রিটিশের কাছে ধরা দেননি। অবশ্য তাদের সাথে আজকের মির্জা-মওদুদদের তুলনা চলে না, করছিও না।
তৃতীয়ত, যে ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান নিয়ে এত হরতাল এত গাড়ি পোড়ানো, গাড়িতে ঘুমন্ত চালকসহ গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, মামলা হওয়ায় নেতাদের বোরখা পরে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেয়া, সে ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান কেউ কি সমর্থন করেন? না করেছেন? কেউ করেননি। করছেন না। বরং সবাই চায় ইলিয়াস আলী সুস্থ দেহে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসুন। একটা সময় ছিল যখন অভি-ইলিয়াস, নিরু-বাবলু, লিয়াকত-হান্নান-আওরঙ্গ এমনি বেশকিছু নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কাঁপিয়েছে। তার মধ্যে এক ইলিয়াস আলী ছাড়া অন্যরা কে কোথায় আছে জানি না। ইলিয়াস আলী নিজেও যোগ্যতাবলে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট জেলা সভাপতি হয়েছেন। শোনা যায় তিনি সিলেটে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে যেমন মাতব্বরী করতে দেননি তেমনি সাইফুর রহমানের মতো নেতাকেও বেঁচে থাকতে সিলেটে ঢুকতে দেননি। এইভাবে ইলিয়াস আলী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার স্ত্রীও বলেছেন, ‘ইলিয়াস আলী রাজনীতি করতেন এবং রাজনৈতিক কারণেই তিনি অপহৃত হয়েছেন।’ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে দেখা করতে গেলে বুকে জড়িয়ে বলেছেন, ‘মানবিকতা রাজনীতের উর্ধে। সরকার ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
কিন্তু আমাদের জাতিরই বোধহয় দুর্ভাগ্য। এত বড় একটা ঘটনা ঘটল পুলিশ বা পুলিশের তাবৎ গোয়েন্দা বাহিনী আজতক কোন ‘ক্লু’ বের করতে পারলেন না। পারলেন না সাগর-রুনীর হত্যা বা সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্র্তা হত্যার ক্লু বের করতে। অতীতের কিবরিয়া হত্যাকা-ের কি হলো বা ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা ও আইভি রহমানসহ হতাহতের ঘটনারও তো কোন সুরাহা হলো না। আগে শুনেছি পুলিশের দায়িত্ব পালন করার মতো লজিস্টিকস নেই, এখন তো সেই ‘নেই’ ‘আছে’ হয়ে গেছে। এমনকি মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতিরা যে গাড়ি পান না পুলিশের অফিসাররা তা পাচ্ছেন। তবু কেন কোন ঘটনার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? (পুলিশের ঘুষের কথা নাইবা বললাম)।
চতুর্থত, একটি প্রশ্ন করতে চাই আপনারা হরতাল করুন, মিছিল সমাবেশ করুন, কিন্তু হরতালের আগের সন্ধ্যায়-রাতে গাড়ি পোড়ানো বা হরতালের সময় গাড়িভাঙ্গা টেলিভিশনে দেখা) এসব কোন্ গণতান্ত্রিক রাজনীতি? বলবেন, আপনারা তো, মানে নেতারা গাড়ি পোড়াননি। তবে যারা পোড়াচ্ছে ভাঙছে তারা তো আপনাদেরই কর্মী, এদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাটা নেতৃত্বের ব্যর্থতা নয় কি? ঠিক বোরখা পরার মতো।
আর বোরখা পরতে হলে ভেবে পরবেন। এই বোরখা পরে সন্ত্রাসীরা তাদের সন্ত্রাসী কাজ করে, মাদক পাচারকারীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পাচার করে (এমনি অনেক খবর শুনেছি)।
ঢাকা-১১ মে ২০১২
লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন