শনিবার, ২৩ জুন, ২০১২

পিতাকে পুত্র

পিতাকে পুত্র


॥ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ॥

১১
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
দুইশত পঞ্চান্ন বছর আগে ভাগীরথীর তীরে পলাশীতে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়েছিল। বহু রক্ত, ত্যাগ-তিতিা ও সংগ্রামের বিনিময়ে ভারতবর্ষ থেকে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ বিতাড়িত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ না হলে হয়তো এখনো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আমাদের কব্জা করেই থাকত। জার্মানির বলদর্পী এডলফ হিটলার ফুরার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মাজা ভেঙে দেয়ায় তারা ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মান জাতির ওপর অতি মাত্রায় শর্ত চাপানোর মাধ্যমে ভার্সাই চুক্তির মধ্যে। কোনো দেশ কোনো জাতির ওপর অমন নিষ্ঠুর নিদারুণ অসম্মানজনক শর্ত চাপালে পরিণতি যা হয় তাই হয়েছিল। এখনো অমন করলে যা হওয়ার তাই হবে। ভবিষ্যতেও এর কোনো হেরফের হবে না। তাই যখন যে মতায় বা শক্তিতে থাকুক তাকে মনে রাখতে হবে চিরকাল কেউ সবল থাকে না। 
আজ রাুসী পলাশী দিবস। তাই মুর্শিদাবাদ ও পলাশীকে ঘিরেই দু-এক কথা আলোচনা করি। তুমি কখনো পলাশীতে যাওনি। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় কখনো মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর গেছ কি না জানি না। কিন্তু জাতির পিতা হয়ে কখনো সেখানে যাওনি। আমি মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, মালদা বেশ কয়েকবার গেছি। কিন্তু একেবারে প্রথম গিয়েছিলাম ’৭২ সালের এপ্রিলে। তখনো দু’দেশের মধ্যে পাসপোর্ট চালু হয়নি। নিজেদের পারাপারের কাগজপত্র নিজেরাই লিখে দিয়েছিলাম। সংখ্যাটা ঠিক মনে নেই তবে এক শ’ জনের বেশি হবে। ৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল থেকে রওনা হয়েছিলাম। ছোট-বড় ৯-১০টি গাড়ি ছিল সাথে। যাত্রীদের মধ্যে যারা ছিলেন তারা হলেন প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদ, কবি রফিক আজাদ, মরহুম লোকমান হোসেন ফকীর, গায়ক ফারুক, ওস্তাদ ফারুক, মরমি পল্লীগীতি শিল্পী আবদুল আলিম, টাঙ্গাইলের ফারুক কোরায়েশী, রতন ঠাকুর, আতোয়ার রহমান খান, রঞ্জিত কান্ত সরকার, আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিম, আফতাবুজ্জামান খান ফিরোজ, ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান, মেজর হাবিব বীরবিক্রম, আমার ছোটবোন রহিমা, শুশুমা, শেলী, নাজনীন আরো কয়েকটি মেয়ে ও অন্যরা। জামালপুর, শেরপুর, ঝিনাইগাতী সীমান্ত দিয়ে বারেঙ্গাপাড়া-তুরা হয়ে মানকারচর, ধুবড়ী, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, মালদা হয়ে মুর্শিদাবাদ পৌঁছেছিলাম। সে এক লম্বা পথ। আমরা দুই রাত্রী ছিলাম বহরমপুর সার্কিট হাউজ, ট্যুরিস্ট লজ ও অন্যান্য ঘর-দুয়ারে। 
বহরমপুর জেলা শহর থেকে মুর্শিদাবাদ হাজারদুয়ারী চার-পাঁচ কিলোমিটার হবে। তখন ভাগীরথী নদীতে কোনো পানি ছিল না। পশ্চিম পারে সিরাজের সমাধিতে অনায়াসেই যাওয়া যেত। হাজারদুয়ারী জাদুঘর একটি সাহিত্য-সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। মোটামুটি সবই আছে। আলীবর্দী খাঁর কবর, সিরাজউদ্দৌলার, লুৎফার। তবে বিস্মিত হয়েছিলাম এক বিশাল ভবনের সিঁড়ির কাছে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর আলী খাঁর কবর। দুর্গন্ধে সেখানে টেকা যায় না। গাইডকে জিজ্ঞেস করতেই বলল, ‘ওখানে মীরজাফরের কবর। লোকজন এখনো পেশাব করে।’ ভারতে ১৬ বছর নির্বাসিত ছিলাম। পরে অনেক খোঁজ নিয়ে দেখেছি ঘটনাটি সত্য। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার পতনের ইতিহাস বা নবাবের পতনের ইতিহাস বড় মর্মান্তিক ষড়যন্ত্রের ইতিহাস। পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ফেরার পর নবাব দু-তিন দিন প্রাসাদেই ছিলেন। তারপর পুর্নিয়ার নবাবের সহায়তার আশায় নদীপথে পাটনার উদ্দেশে রওনা হলে ভাগীরথীর তীরে ভগবানগোলা থেকে মীরজাফরের জামাতা মীর কাসিম তাকে গ্রেফতার করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসে। মীরজাফরের ছেলে মিরনের ষড়যন্ত্রে মোহাম্মদী বেগ তাকে কারাগারে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। অথচ সিরাজউদ্দৌলার মা এতিম মোহাম্মদী বেগকে পুত্রের মতো লালন-পালন করেছিলেন। আল্লাহর কী বিচার! মীরজাফরের পুত্র মিরন সিরাজের স্ত্রী লুৎফা ও কন্যাকে ভাগীরথীতে নৌকাডুবিয়ে মেরেছিল, সেও পানিতে ডুবে মরেছে। মোহাম্মদী বেগ ঠাটা পড়ে মরেছে। বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর কুষ্ঠরোগে ধুঁকে ধুঁকে মরেছে। আর মীরজাফরের জামাতা স্বাধীনচেতা দেশপ্রেমিক মীর কাসিমকে ইংরেজরা মীরজাফরের পরিবর্তে এক গাদা টাকা নিয়ে নবাব বানালে ইংরেজের সাথে তার বিরোধ শুরু হয়। তখন মীর কাসিম রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে বিহারের মুঙ্গেরে সরিয়ে নেন। সেখানে উজয়নালার বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের সাথে পরাজিত হয়ে সর্বস্বান্ত মীর কাসিম অযোধ্যার রোহিলাখণ্ডের দিকে চলে যান। সেখানে কিছুকাল আত্মগোপন করে হতদরিদ্র অবস্থায় মারা যান। রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎ শেঠ, ইয়ার লতিফ যারাই ষড়যন্ত্র করেছিল কারোরই পরবর্তী জীবন ভালো হয়নি। ঠিক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তোমাকে যারা হত্যা করেছিল, যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের একজনের জীবনও ভালো ও সুস্থ হয়নি। সে মোশতাকই বলো আর ফারুক-রশীদ-ডালিমই বলো কেউ শান্তি পায়নি, স্বস্তি পায়নি। 
ইতিহাসে সব সময় এমনই হয়। ফোরাতের তীরে কারবালায় যারা মহানবী সা:-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন ও তাঁর পরিবার-পরিজনের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করেছিল তারাও ধ্বংস হয়েছে নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়েই। কিন্তু তার পরও কেন যেন মানুষ ইতিহাস থেকে শিা নিতে চায় না। ’৭২-এ যখন মুর্শিদাবাদ গিয়েছিলাম গ্র্যান্ডট্রাঙ্ক রোডের পাশে একের পর এক বাবলাগাছ দেখছি। তাতে কত শত হাজার হাজার বীর সিপাহিদের ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ সাল কত বা সময়Ñ এক শ’ বছর। বিদ্রোহ করায় তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়েছিল। ঢাকাতেও বাহাদুর শাহ পার্কে অমন করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা তা যতœ করে রা করি না। কারণ এখন জাতি হিসেবে আমরা বড় হালকা হয়ে গেছি। বর্তমান নিয়ে সবাই বড় বেশি ব্যস্ত। অতীতের প্রতি কারো কোনো খেয়াল নেই। কেউ সেখান থেকে শিাও নেয় না। ১৮৫৭ সালে বারাসাতের ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডে প্রথম বিদ্রোহ করেছিল। সেই বিদ্রোহ দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বাহাদুর শাহ জাফরকে স্বাধীন সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ইংরেজের শক্তির কাছে ভারতবাসী হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত শক্তি এঁটে ওঠেনি। তাই নির্বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ভারতকে পদানত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার মাত্র ৯০ বছর পরই সেই বলদর্পী ব্রিটিশকে লেজ গুটিয়ে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে আশ্রয় নিতে হয়েছে। ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহের জন্য আমাদের নিন্দা করত, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। কিন্তু আজ ব্রিটিশের ফাঁসিতে ঝুলানো সেই বীর সিপাহিদেরই সারা পৃথিবী সালাম করে, শ্রদ্ধা জানায়, সম্মান দেখায়। যারা ঝুলিয়েছিল সেই ব্রিটিশকে এ কাজের জন্য কেউ সম্মান করে না বরং নিন্দা করে। তাই কোনো কিছুই সব সময় এক থাকে না। 
এত দিন বলিনি কিন্তু সময় বহিয়া যায়। দু’বছর আগে আমাদের বিডিআরের ঘটনা যেভাবে মোকাবেলা করা হলো এখন বিচার-আচার হচ্ছে। ভবিষ্যতের কাছে এগুলো কতটা যথার্থতা পাবে নিখুঁতভাবে ভেবে দেখা দরকার। পিতা, তোমাকে কিছু বলতে গেলেই একসাথে সব কথা হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসতে চায়। কত বছরের কত কথা সবাই এক প্রতিযোগিতায় নেমে যায়, কে তোমার কাছে আগে যাবে। আমরা যেমন তোমার পাগল, মনে হয় আমাদের কথাগুলো, অনুভূতিগুলো তোমার সামনে হাজির হতে আরো বেশি মহাপাগল। আমরা ছিলাম কলকাতার পথের যাত্রী। জগদ্বিখ্যাত পল্লীগীতি গায়ক আবদুল আলিমের বাড়ি মুর্শিদাবাদ। বড় সাদাসিধা মানুষ ছিলেন। ভারত থেকে পাকিস্তানে আসার পর একবারো আর তার বাপ-দাদার ভিটায় যাননি। খুব সাহস করে যেন কাকে বলেছিলেন, আমারও তার বাড়ি দেখার খুব শখ হয়েছিল। কলকাতা মহাসড়ক থেকে চার-পাঁচ মাইল দূরে তার বাড়ি। অন্য সবাইকে রেখে আমরা ২০-২৫ জন মরমি শিল্পী আবদুল আলিমের বাড়ি গিয়েছিলাম। ছন ও টিনের ঘরের অতি সাধারণ বাড়ি। আশপাশে বাঁশঝাড়, আম, জাম নানা গাছপালা। আমাদের দেশের একেবারে সাধারণ কৃষকের যেমন হয় ঠিক তেমনই। এরপর গিয়েছিলাম পলাশীর প্রান্তরে। 
পলাশীর কত বর্ণনা পড়েছি, ব্যাখ্যা শুনেছি। গিয়ে দেখলাম রাস্তা শেষে যেখানে ধানতে শুরু সেখানে একটা ছোট্ট মনুমেন্ট ১৫-২০ ফুট উঁচু একটা পিলারের মতো দাঁড়িয়ে আছে। সেই আমবাগান, কলাবাগান কোথাও কোনো কিছুর চিহ্ন নেই। প্রথম প্রথম বেশ হতাশই লাগল। পরে ধীরে ধীরে ভাবলাম ২০০ বছর আগের ঘটনা কেমন করে তেমন থাকবে? ইচ্ছেমতো মনের আনন্দে এদিক-সেদিক ঘুরে দেখলাম। ভাবলাম সে দিনের সেই যুদ্ধের কথা। পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজের সৈন্য ছিল মোটামুটি তিন হাজার। তার মধ্যে মাত্র তিন শ’ ইংরেজ। আর বাকি সবই ভাড়াটিয়া ভারতীয়। অস্ত্রও তেমন বেশি ছিল না। ৭০-৭২টি রাইফেল, বন্দুক, কয়েকটা গাদাবন্দুক, ছোটখাটো কয়েকটা কামান। অন্য দিকে মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ এদের সেনাবাহিনীর অধীনে প্রায় ৭০ হাজারের ওপর নবাবের সৈন্য ছিল। সেখানে তীরন্দাজ, গোলন্দাজ, ঘোড়সওয়ার, পদাতিক কোনো অভাব ছিল না। নবাবের হাতেও বন্দুক ছিল, ছিল কামান। কিন্তু যুদ্ধের সময় দেখা গেল ইংরেজের আক্রমণের বিরুদ্ধে শুধু মীরমদন, মোহনলাল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। মোহনলালের গোলন্দাজ বাহিনীর কামানের গোলায় ইংরেজরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাচ্ছিল। ফরাসি বীর চিনফ্রে প্রাণপণ লড়াই করছিল ইংরেজের বিরুদ্ধে। জান বাঁচাতে ইংরেজরা যখন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছিল তখন ষড়যন্ত্রের শর্ত অনুসারে মীরজাফর নবাবের কাছে গিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রার্থনা করেন। নবাব জিজ্ঞেস করেন, ‘কেন? আপনারা যুদ্ধে অংশ না নেয়ার পরও মীরমদন, মোহনলাল ইংরেজদের পিছু হটিয়ে দিয়েছে। এ সময় যুদ্ধবিরতি কেন?’ মীরজাফর নবাবকে বলেন, ‘সৈন্যরা অনেকেই কান্ত হয়ে লড়েছে তাই আজ যুদ্ধবিরতি করে কাল আমরা নবোদ্যমে যুদ্ধ শুরু করলে ইংরেজরা অল্প সময়ের মধ্যেই পরাজিত হবে।’ নবাব প্রধান সেনাপতিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর ইংরেজ যদি রাতের আঁধারে আমাদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে?’ এক সময় মোহনলাল আহত হওয়ায় নবাব যুদ্ধবিরতির আদেশ দেন। যুদ্ধবিরতির খবর শুনে ফরাসি বীর চিনফ্রে নবাবের শিবিরে ছুটে আসেন। নবাবকে জিজ্ঞেস করেন, ‘পরিকল্পনা হইল এক রকম, যুদ্ধ হইতেছে আরেক রকম। ব্যাপারটা কী?’ নবাব তাকে ধমক দিয়ে বের করে দেন। পলাশীর যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়।
মজার ব্যাপার ভাগীরথীর তীরে পলাশীতে যে সময় ইংরেজ আর নবাবের যুদ্ধ হচ্ছিল, তখনো জেলে নদীতে মাছ ধরছিল, কৃষক হাল চালাচ্ছিল, অন্যান্য মানুষ যে যার নিত্যকাজে ব্যস্ত ছিল। তারা বুঝতেও পারেনি তাদের অজান্তে কত বড় তি হয়ে গেল। আজো যেমন দেশে কত কিছু হচ্ছে সাধারণ মানুষ মনে করছে তাদের কিছুই করার নেই। এটা সরকার ও বিরোধী দলের ব্যাপার, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের ব্যাপার। কিন্তু যখন সব হারিয়ে যাবে তখন হয়তো তারা বুঝতে পারবে। এই আধুনিক জমানায় হারানোর আগে বুঝলেই ভালো। পলাশীর প্রান্তর ঘুরেফিরে যখন গাড়িতে উঠতে যাবো তখন দেখি আমাদের এক গাড়ি দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে কবি রফিক আজাদ ও আরো কে যেন মারাত্মক আহত হয়েছেন। কোনো জায়গা পরিদর্শনে গেলে রাস্তাঘাটে সহযাত্রী আহত হলে সে ভ্রমণের আর কোনো মজা থাকে না। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে দুর্ঘটনাকবলিতদের মারাত্মক তি হয়নি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের সাথে নিয়ে আমরা আবার রওনা হলাম। এ পর্যায়ে কলকাতায় পৌঁছলে আমাদের স্বাগত জানালেন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শঙ্কর প্রসাদ মিত্র ও আরো কে কে। ছোট মানুষ অত বড় বড় মানুষকে দেখে অভিভূত ও মুগ্ধ হয়েছিলাম। বিশেষ করে আকাশবাণীতে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস কথিকা শুনেছি, আলোড়িত হয়েছি। সেই দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের স্বাগত জানাতে দেখে আরো বেশি অভিভূত হয়েছিলাম। 
(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন