মো. নূরুল আমিন
গ্রাম বাংলায় একটা কথা প্রচলিত আছে। ভিখেরীর কাছে বিয়ে বসলে নাকি নানা রঙের চালের ভাত খাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও অনেকে মনে করেন দেশবাসী নানা পাগলামী দেখার সুযোগ পান। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মরহুম তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে সোহেল তাজকে নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার যে খেলা শুরু করেছেন তা দেখে কথাগুলো মনে পড়লো।
তানজিম আহমদ সোহেল তাজ এই সরকারেরই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার বয়স দু'মাস পেরুতে না পেরুতেই বাংলাদেশের ইতিহাসে সব চেয়ে বড় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনার কেউ নাম দিয়েছেন বিডিআর বিদ্রোহ এবং কেউ কেউ একে বিডিআর হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই হত্যাযজ্ঞের বলি হয়েছিলেন বিডিআরের মহাপরিচালকসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৭ জন চৌকস কর্মকর্তা। তাদের পরিবার পরিজনেরও অনেকে নৃশংসতা, হত্যা ধর্ষণ এবং লুণ্ঠনের শিকার হয়েছিলেন। তাদের মৃত দেহের প্রতি চরম অবমাননা করা হয়েছিল। বলাবাহুল্য এই হত্যাযজ্ঞের ফলে এক দিনে যত সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের নয় মাসেও তত কর্মকর্তাকে আমরা হারাইনি। এর ফলে আমাদের সীমান্ত রক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়ে যার খেসারত এখনো আমরা দিয়ে যাচ্ছি। সীমান্ত এলাকায় প্রতিবেশী ভারতের নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে বাংলাদেশী নাগরিকরা অহরহ খুন হচ্ছে, উলঙ্গ করে তাদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে, ফেলানীর মতো যুবতী মেয়েদের মেরে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান আমাদের শিল্প কারখানা ও কৃষি পণ্যের উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বলাবাহুল্য বিডিআর হত্যাযজ্ঞের পর পর হঠাৎ করে দেখা গেল যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কেউ কেউ বললেন তিনি যুক্তরাষ্ট্র গেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না। বাংলাদেশ দূতাবাস কিছুই বলতে পারলো না। এর পর দেখা গেল, তিনি দেশে এসে হাজির। জানা গেল তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্ডিয়া এবং সেখান থেকে স্থল পথে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার অন্তর্ধান অথবা এই সফরটি ছিল অত্যন্ত রহস্যে ঘেরা। এই রহস্যের কুলকিনারা এখনো হয়নি। এর দু'মাস পরেই তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগপত্র দাখিল করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তবে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ রক্ষা করেননি। জনাব শামছুল হক টুকু তার স্থলাভিষিক্ত হন। গত বছর তিনি একবার দেশে এসেছিলেন এবং সরকারের তরফ থেকে তাকে মন্ত্রীর প্রটোকল দেয়া হয়েছিল, তিনি তা গ্রহণ করেননি । নিজ এলাকায় কিছুকাল থেকে তিনি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সম্প্রতি জনাব সোহেল তাজ পত্রপত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইস্তেফা দেয়ার পরও কেন তার একাউন্টে সরকার বেতন ভাতার অর্থ জমা করেছেন সরকারের কাছে তার ব্যাখ্যা দাবি করায় সর্বত্র হৈ-চৈ পড়ে যায়। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হোক কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সকলের বেতন-ভাতা হয় আমাদের দেশের দরিদ্র মানুষের খাজনার টাকা থেকে। এ জন্য সরকারকে কিছু বিধি-বিধান মেনে চলতে হয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থবিধির কোথাও একথা বলা নেই যে যিনি পদত্যাগ করেছেন, কাজ করছেন না এবং এমন কি কর্মস্থল কিংবা দেশেও নেই, তিনি ছুটিতেও নেই, তার বেতন-ভাতা বাবত সরকারি কোষাগারের অর্থ ব্যয় করা যায়। যদি এ ধরনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কোনও কর্তৃপক্ষ একাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এজি) অফিসকে নির্দেশ দেন তা হলে এজি অফিসের দায়িত্ব হচ্ছে অর্থবিধির সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করা। আমি জানি না সোহেল তাজের বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে এজি অফিস তাদের এই দায়িত্ব পালন করেছে কিনা। যদি না করে থাকে তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধভাবে অর্থ ব্যয়ের জন্য নির্দেশদাতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং একাউন্ট্যান্ট জেনারেল উভয়েই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ তাদের ব্যক্তিগত দায় বলে গণ্য হতে পারে। জনাব সোহেল তাজ সরকার কর্তৃক অবৈধভাবে তার বেতন-ভাতা পরিশোধের ব্যাপারে যে অবস্থান গ্রহণ করেছেন তার জন্য তিনি নন্দিত হবার যোগ্য। জানা গেছে যে, বেতন প্রত্যাখ্যান এবং পদত্যাগের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পরও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগপত্র এখনো গৃহীত হয়নি। ইতোমধ্যে সোহেল তাজ তার এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবেও পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি বিবেকের দংশনকে দায়ী করেছেন এবং বলেছেন যে এমন অনেক সত্য কথা আছে যা বলা যায় না। আবার চোখের সামনে অন্যায়ের প্রশ্রয় এবং দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর তৎপরতা সহ্য করাও সম্ভবপর নয়। এ প্রেক্ষিতে তিনি বিবেকের তাড়নায় ইস্তেফা দেয়াকে শ্রেয় মনে করেছেন। সংসদ থেকে সোহেল তাজের পদত্যাগের এই বাসনাটিও পূরণ হয়নি বলে পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট বেরিয়েছে। পদত্যাগ নিয়ে একাধিকবার টেলিফোনে আলাপ করার পরও স্পীকার জনাব আব্দুল হামিদ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। স্পীকারের সিদ্ধান্তটি প্রকাশিত হবার পর সোহেল তাজ তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দৈনিক সমকালের সাথে দীর্ঘ এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে বেশি ঘাটাঘাটি করলে আখেরে সরকারেরই বেশি ক্ষতি হবে। তিনি বলেছেন, কারো মুখোশ উন্মোচন করতে চাই না, তবে বেশি ঘাটাঘাটি করলে হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দেব। তিনি সমকালকে বলেছেন, যেখানে নিজের বিচার বুদ্ধি এবং যুক্তি দিয়ে কিছুই করা যায় না সেখানে আর যাই হোক রাজনীতি করা যায় না, তাতে জনগণের সাথে শুধু প্রতারণাই করা হয়। এই প্রতারণা নিজের সাথেও। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে উত্থাপিত এই বক্তব্য তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন যে, সরকারের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এবং সাংসদদের কমপক্ষে ১০-১২ জন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বৃটেনের নাগরিক। সোহেল তাজ বলেছেন যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে অনেকের মুখোশের আড়ালের চেহারাটা তিনি দেখে ফেলেছেন। তাদের সেই কাজ-কর্ম সমর্থন করতে পারেননি বলেই চার মাসের মাথায় তিনি মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন। জনাব সোহেল তাজের এই বক্তব্যকে আমি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করি।
তিনি প্রায় তিন বছর আগে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেছেন, তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। বরং তার ব্যাংক একাউন্টে বেতন ভাতা জমা দেয়া হচ্ছে। এর পেছনের কারণ বুঝা মুস্কিল। তিনি এর প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অথবা এজি অফিস কোনও স্থান থেকেই এর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে পদত্যাগ করেছেন। স্পীকার জনাব আব্দুল হামিদ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করার সময় এও বলেছেন যে সোহেল তাজ মার্কিন নাগরিক এবং এ প্রেক্ষিতে তার সদস্যপদ আপনাআপনিই চলে যাবে, পদত্যাগের দরকার হবে না। কথাটি স্ববিরোধী। সরকারের একজন মন্ত্রীও একটি টিভি চ্যানেলে অনুরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের কথা যদি সত্য হয় তাহলে এতদিন পর্যন্ত তাকে ধরে রাখা হলো কেন, এখনি বা কেন হচ্ছে? বেতন ভাতাই বা দেয়া হচ্ছে কোন্ যুক্তিতে। সরকারি কোষাগারের টাকা তো কারুর ব্যক্তিগত কিংবা পৈতৃক সম্পত্তি নয় যে যথেচ্ছভাবে তা খরচ করা যাবে।
জনাব সোহেল তাজ হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দেয়া এবং মুখোশ উন্মোচনের যে হুমকিটি দিয়েছেন তা দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলছে। সরকার কি তার হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গা এবং মুখোশ উন্মোচনের ভয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিচ্ছেন না। তিনি হয়ত এমন অনেক কিছু জানেন যা প্রকাশ করলে ক্ষমতাসীনরা মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্বগ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি শপথনামা পাঠ করতে হয়। এই শপথনামার একটি অনুচ্ছেদে বলা আছে যে তারা সরকারের কোনও গোপন বিষয় বাইরে প্রকাশ করবেন না। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করলে গোপনীয়তা রক্ষার এই বাধ্যবাধকতা আর থাকে না। সরকার হয়ত ভয় করছেন যে, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে তিনি গোপন বিষয়গুলো ফাঁস করে দিবেন। ফলে সরকার ও তার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিপদে পড়বেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই গোপন বিষয়গুলো কি? জনাব তাজের বক্তব্য অনুযায়ী ‘অনেকের মুখোশের আড়ালের আসল চেহারা' তিনি দেখে ফেলেছেন। এই চেহারা কি দেশপ্রেমিকের না মীরজাফরের? আগেই বলেছি জনাব তাজের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে পিলখানায় বিডিআর হেডকোয়ার্টারে শতাব্দীর নিকৃষ্টতম হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, সরকার যদি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন তা হলে বাংলাদেশের গৌরব ৫৭ জন প্রতিভাবান ও চৌকস সেনা কর্মকর্তা নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হতেন না। সরকার তা করেননি বরং রাজনৈতিক সমাধানের নামে সময়ক্ষেপণ এবং বিদ্রোহীদের ক্ষমা প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন যাতে তারা উৎসাহিত হয়েছে। আবার সরকার দলীয় একজন এমপি কর্তৃক পিলখানার তিন কিলোমিটার রেডিয়াসের মধ্যে অবস্থিত সকল বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ দিয়ে খুনীদের পালিয়ে যাবার নিরাপদ রাস্তা করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংসের এটি একটি চক্রান্তের অংশ। এই চক্রান্তে প্রতিবেশী একটি দেশ জড়িত থাকার কথাও অনেকে যেমন বলেছেন তেমনি এই অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই চক্রান্তের সাথে আমাদের দেশেরও কারুর কারুর সম্পৃক্তি ছিল। সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটি এবং আনিসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটি উভয়েই এই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনাকারী আসল কুশীলবদের চিহ্নিত করার জন্য বৃহত্তর তদন্তের সুপারিশ করেছিলেন কিন্তু সরকার এই সুপারিশ গ্রহণ না করে, ‘বিডিআর বিদ্রোহের' বিচার কাজ শুরু করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ ব্যক্তি নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাযজ্ঞের প্রাক্কালে সরকার যখন নানা সমালোচনা ও প্রতিকূলতায় নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারত বান্ধব বাংলাদেশের বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে সেনা অভিযান চালানো হবে। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশে আরেকটা প্রতিবেশী দেশ সেনা অভিযান চালানোর এই ঘোষণা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। সরকার এর প্রতিবাদ করেননি। তা হলে কি ধরে নেয়া যায় যে, সরকার তাদের রক্ষার জন্য প্রতিবেশী দেশের সৈন্য আহবান করেছিলেন? যদি করে থাকেন তা হলে তা দেশপ্রেমের পরিচায়ক ছিল না। আমরা এটাও বিশ্বাস করতে চাই না যে, সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে ধ্বংস করে আজ্ঞাবহ হিসাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বহিঃশক্তির সাথে সরকারের যোগসাজশ ছিল। তা যদি না হয় তাহলে হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গা এবং মুখোশের আড়ালের চেহারা উন্মোচনের যে কথাটি সোহেল তাজ বলেছেন সেটা কি? বিষয়টি জানতে দেশবাসী উৎসুক হয়ে থাকবে।
হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গার কথাটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আরো একজন সিনিয়র নেতা বলেছিলেন। তিনি হচ্ছেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। তার কয়েকটা কথা ছিল প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছিলেন যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পেছনে গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনী ও বৈদেশিক শক্তির যোগসাজশ ছিল। তার দ্বিতীয় কথাটি ছিল, মন্ত্রী পরিষদে এমন অনেক মন্ত্রী আছেন যারা গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা পান (তিনি দেশী বা বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার নাম নেননি)। জনাব জলিল আরো বলেছিলেন, এমন অনেক সত্য কথা আছে যেগুলো দল করার কারণে বলা মুশকিল। কেননা, তাতে সরকার বিব্রত হয়ে পড়বেন। জনাব জলিলের উপরোক্ত বক্তব্যসমূহের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড থেকে বলা হয়েছিল যে, জনাব জলিল অসুস্থ এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। জনাব জলিলের বিরুদ্ধে এরপর কয়েকটা মামলা হবার কথাও শোনা গিয়েছিল এবং তিনি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিলেন। হাঁড়ি ভাঙ্গার জন্য ডান্ডা আর ব্যবহার করেননি। মামলার অবস্থা কেমন তা আর জানা যায়নি। জনাব সোহেল তাজের জন্য এখন কি রান্না হচ্ছে তা বলা মুশকিল। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ দেশে দুঃশাসন, হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, লুটপাট, দুর্নীতি এবং বিরোধী রাজনীতিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের যে রাজত্ব কায়েম করেছে তাতে দেশ এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় নিক্ষিপ্ত হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুত ও পানি সংকট, বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী, জীবন রক্ষাকারী ওষুধপত্র প্রভৃতির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই অবস্থায় দেশের মানুষের স্বার্থ ও অধিকারকে বিকিয়ে দিয়ে ও পদদলিত করে প্রতিবেশী দেশের উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার সরকারী প্রচেষ্টাকে সরকারী দলের বিবেকবান অংশ ভালো চোখে দেখছেন না। এরা যদি একসাথে বেরিয়ে এসে হাঁড়ি ভাঙ্গতে শুরু করেন তখন হাটের অবস্থা কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। কাজেই সময় থাকতে সাধুর সাবধান হওয়াই ভাল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন