আসিফ আরসালান
সারাদেশে এখন সবার মুখে একই প্রশ্ন: দেশে এসব কি হচ্ছে? সভা সমিতি, সেমিনার এমনকি টেলিভিশনের টক শোতেও আলোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন যে, সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে সেভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে দেশ চরম নৈরাজ্যের মুখে পতিত হবে। সংবাদপত্র জগতের একজন দিকপাল সেদিন টেলিফোন করে আমার কাছে বললেন: সরকার আত্মহত্যার পথে চলেছে। ঢাকায় এশীয় ও প্রাচ্য দেশীয় সাংস্কৃতিক সম্মেলন হয়ে গেলো। আমাদের বামে যে কয়েকটি রাষ্ট্র রয়েছে তাদের মধ্যকার একটি বড় রাষ্ট্রের মন্ত্রীর সম্মানে একটি মাঝারি ধরনের সুধী সমাবেশ হয়েছিলো। সেই সমাবেশে যোগদানের সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। সেখানেও অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেককেই শংকা প্রকাশ করতে দেখলাম: আমরা কি একটি ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ছুটে চলেছি?
দেশে এমন কতগুলো আলামত দেখা যাচ্ছে যেগুলো দেখে সচেতন সব মানুষের মনে এসব প্রশ্ন আলোড়ন সৃষ্টি করছে। দু'একটা নিয়ে আলোচনা করা যায়। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে একটি বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের সমস্ত শীর্ষ নেতাসহ ৪৫ জন নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনে চার্জশীট দেয়া হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে চার্জশীট তথা মামলা গৃহীত হলে এক মাসের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন শাস্তি ২ বছরের কারাদন্ড। আর সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদন্ড। এই চার্জশীট দ্রুত বিচার আদালত গ্রহণ করবে কি না সেই প্রশ্নের শুনানি হবে আজ রোববার। ভাবতে অবাক লাগে যে এই ধরনের অনেক মামলা, যেগুলোর চার্জশিট দাখিল তো দূরের কথা, তদন্ত করতেই মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর লেগে যায়, সেখানে ৪৫ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করতে সময় লাগল মাত্র ১১ দিন। এ যেন রীতিমত ভোজবাজির ব্যাপার। পুলিশ বলেছে যে চার্জশিট গৃহীত হলে তারা এই ৪৫ জন নেতাকেই গ্রেফতারের জন্য আবেদন করবে।
কিন্তু এখানে রয়েছে একটি আইনগত ফাঁক। সকলেই জানেন যে, হাইকোর্টে এই মামলায় এসব নেতার আগাম জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্তু হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চটি বিভক্ত রায় দিয়েছে। তাই সুপ্রীম কোর্টের নিয়মানুযায়ী বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যায়। বিচারপতি অনোয়ারুল হককে দিয়ে তিনি তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করেছেন। বিভক্ত রায় বলতে ২ জন বিচারপতি ২ রকম রায় দিয়েছেন। এখন তৃতীয় বেঞ্চ এই দুটি রায়ের যেকোনো একটিকে সমুন্নত রাখবেন। তিনি যদি জামিন মঞ্জুর করেন তাহলে যে কয়দিনের জামিন মঞ্জুর করবেন সেই কয়দিন পর্যন্ত অভিযুক্তদেরকে গ্রেফতার করা যাবে না, এমনকি পুলিশ আবেদন করলেও নয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের হাত নিসপিস করছে। তাই হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের রায়ের জন্য অপেক্ষা না করেই তারা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষ এখান থেকে সহজেই ধারণা করতে পারবেন যে আসলে মামলা বা বিচার, এগুলো কোনো উদ্দেশ্য নয়, যে কোনো ছুতানাতা ধরে সমস্ত বিরোধী দলকে সমূলে উৎপাটিত করাই সরকারি দলের আসল মতলব। শেখ হাসিনার সরকার আসলে দেশে এবং বিদেশে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে। যুদ্ধটি কার বিরুদ্ধে? যুদ্ধটি হলো সেই দল, মত বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, যারা শেখ হাসিনার বিরোধিতা করছেন। সেটি করতে গিয়ে এই সরকার তথা সরকার প্রধান দেশী বিদেশী কিছুই মানছে না। এদের দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য হলো ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা।
\ দুই \
এতোদিন ধরে তারা সেই কথাটি বলেছেন ঠারে ঠুরে। কিন্তু এবার সেই কথাটি সোজাসাপ্টা বলে ফেলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার। এব্যাপারে দৈনিক ‘আমাদের সময়ে' গত ১১ এপ্রিল একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরের শিরোনাম, ‘‘২০২১ সাল পর্যন্ত সরকার বদলাবে না।’’ ঐ খবরে বলা হয়, ‘‘২০২১ সাল পর্যন্ত সরকার বদল হবে না বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, সরকার বদলাবে না। আমরা জাতির জন্য, দেশের জন্য যেভাবে কাজ করছি, তাতে জনগণ এ সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনবে। আমরা ১০ বছর মেয়াদী (২০১০-২১) যে পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি, সেই পরিকল্পনা আওয়ামী লীগ সরকারই বাস্তবায়ন করে যেতে পারবে।’’
দেখা যাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক সময় সরাসরি কথা বলেন না। একেক কথা একেক মন্ত্রীর মুখ দিয়ে বলান। এটিই হয়ত অনেক প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের কৌশল। কিন্তু এটিই যে এই সরকারের গোপন অভিলাষ সেটি এখন বিভিন্ন কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে প্রতিভাত হয়েছে। আমার মনে হয়, সরকার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগছে। তাই ইদানীং তারা সর্ব ক্ষেত্রে এমন যুদ্ধংদেহী হয়েছে যে শত্রু নিপাত করার জন্য ডাইনে বায়ে যদি কোনো শত্রু নাও মেলে তাহলেও তারা শূন্যে গদা ঘুরায়।
শূন্যে গদা ঘুরানোর সর্বশেষ নজির একটু পরে দিচ্ছি। তার আগে আলোচ্য ৪৫ নেতার বিরুদ্ধে রুজু করা মামলার মতলব বলতে চাই। একটু আগেই বলেছি যে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদন্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ২ বছরের কারাদন্ড। এখন যদি দ্রুত বিচার আইনে এই ৪৫ নেতাকে সর্বনিম্ন শাস্তি অর্থাৎ ২ বছরের কারাদন্ডও দেয়া হয় তাহলেও এসব নেতা আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। এর অর্থ হলো, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেবে। বড় জোর একটি গৃহপালিত দল নিয়ে নির্বাচন করবে। নির্বাচনের পর সেই দলটিকে গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় রেখে দেবে। পাঠক ভাইয়েরা এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে কোনটি এই গৃহপালিত দল? হ্যাঁ, আপনারা ঠিকই ধরেছেন যে এটি হলো বাংলাদেশে স্বৈরাচার বলে বহুল পরিচিত হোসেইন মোহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। এবার শূন্যে গদা ঘুরানোর কাহিনীতে আসছি।
আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবার নোবেল পুরস্কার প্রদানে এক অজানা ফর্মূলা প্রকাশ করেছেন। বলাবাহুল্য বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নিকট এটি একটি চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার, যেটি এতদিন অজানা ছিলো। তিনি বলেন, ‘‘নোবেল কীভাবে দেয়া হয়, কীভাবে আসে, কেন দেয়া হয়- সে বিষয়ে আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে। বিশ্বের কিছু দেশ আছে যেখানে গিয়ে চিপস, স্যান্ডউইচ আর হোয়াইট ওয়াইন খেলে জনপ্রিয়তা বাড়ে। সময়মত নোবেল প্রাইজও পাওয়া যায়। নোবেল প্রাইজ বিষয়ে একটি বিদেশী ঘটনার বর্ণনা করে আশরাফ বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই মহিলা মাদারল্যান্ড পিস নামের একটি সংগঠন করেন। এই সংগঠন করার দু'মাসের মধ্যে তারা শান্তিতে নোবেল পান। আর নোবেলের টাকা নিয়ে ওই দু'মহিলার মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। তিন মাসের মধ্যে তাদের ঝগড়া আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আর শান্তি থাকে না।(আমার দেশ :১১/০৫/২০১২)। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ড. ইউনূসের বেসিক সাবজেক্ট হলো অর্থনীতি। কিন্তু তিনি কাজ করলেন মাইক্রো ক্রেডিট বা ক্ষুদ্র ঋণে। কিন্তু মাইক্রো ক্রেডিটে নোবেল প্রাইজ না পেয়ে তিনি নোবেল প্রাইজ পেলেন শান্তিতে। সৈয়দ আশরাফ প্রশ্ন করেন,‘‘কোন্ যুদ্ধে তিনি শান্তি আনলেন? কোন্ মহাযুদ্ধে তিনি শান্তি এনেছেন?’’
\ তিন \
নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির ইতিহাস এবং পদ্ধতি সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফের যদি বিন্দুমাত্রও ধারণা থাকত তাহলে তিনি এমন কথা বলতেন না যে কথায় তিনি ইতোমধ্যেই হাসির পাত্র হয়ে গেছেন। আজ থেকে ১১৭ বছর আগে বিজ্ঞানী স্যার আলফ্রেড নোবেল এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন। তিনি নিজে ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। ডিনামাইটের আবিষ্কারক হলেন স্যার আলফ্রেড নোবেল। বৈজ্ঞানিক এবং সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে যাদের অসামান্য অবদান রয়েছে তাদেরকেই এই নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। জ্ঞান বিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় সেগুলো হলো পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি, শান্তি প্রভৃতি। প্রতিটি পুরস্কারের মূল্য মার্কিন ডলার ১.৪৬ মিলিয়ন বা বাংলাদেশী টাকায় ১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। স্যার আলফ্রেড নোবেল মারা গেছেন। কিন্তু এই পুরস্কার প্রদান আজও অব্যাহত আছে। পুরস্কার প্রদানের পদ্ধতি নিম্নরূপ:-
যে সব বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় সেই সব বিষয়ে ৩ হাজার খ্যাতিমান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির কাছে মনোনয়নপত্র চাওয়া হয়। যে বছরের জন্য এই পুরস্কার দেয়া হবে তার আগের বছর সেপ্টেম্বর মাসে এসব মনোনয়নপত্র পাঠানো হয়। শান্তির জন্য যে নোবেল প্রাইজ দেয়া হয় সে সব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সরকার, আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্যবৃন্দ, অধ্যাপক, রেক্টর, শান্তিতে প্রাক্তন নোবেল বিজয়ী এবং নরওয়ের নোবেল কমিটির বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যবৃন্দ। যে বছরের জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হবে সেই বছরের ৩১শে জানুয়ারীর মধ্যে ফরম পূরণ করে নোবেল কমিটির কাছে পাঠাতে হয়। এই ৩ হাজার মনোনয়নপত্রের মধ্য থেকে নোবেল কমিটি প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন প্রার্থীকে বাছাই করেন। যাদেরকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় তাদের নামধাম প্রকাশ করা হয় না, এমনকি এই ৩ শত জনের মধ্যে যাদের নাম থাকে তাদেরকেও জানানো হয় না।
যে যে ক্ষেত্রে এই ৩০০ ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে, নোবেল কমিটি সেই সব ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট থেকে এদের গবেষণা কর্ম বা থিসিসের ব্যাপারে মতামত আহবান করেন। অত:পর ঐসব মতামত সংবলিত একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করে নোবেল কমিটি। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত ব্যক্তিদের তালিকাসহ বিশেষজ্ঞদের মতামত পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট দাখিল করা হয়। এরপর সেই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নোবেল বিজয়ীর নাম চূড়ান্ত করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে একটি বিশেষ সাবজেক্টে সর্বোচ্চ ৩ ব্যক্তিকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে পুরস্কারের টাকা ভাগাভাগি করে দেয়া হয়।
\ চার \
প্রিয় পাঠক, নোবেল পুরস্কার প্রদানের পদ্ধতি আপনারা এতক্ষণ ধরে পড়লেন। এখন আপনারাই বলুন, এখানে কি চিপস, স্যান্ডউইচ এবং সাদা মদ খাইয়ে নোবেল পুরস্কার দেয়ার কোনো সুযোগ আছে? এখানে আমরা পরিষ্কার বলতে চাই যে দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসাবে ড. ইউনূসের ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির প্রতি আমরা সহমত পোষণ করি না। তার ঋণের সুদের অস্বাভাবিক উচ্চ হার দারিদ্র্য দূরীকরণে কত দূর সহায়ক, সেব্যাপারেও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু তাই বলে ড. ইউনূস নোবেল পুরস্কার পেয়ে বিশ্ব সভা থেকে বাংলাদেশের জন্য যে সমমান ও গৌরবের মুকুট নিয়ে এসেছেন সেটি তো আর অস্বীকার করা যায় না। আমরা তার থিওরী বা কর্মপদ্ধতির সাথে একমত হতেও পারি। নাও পারি। কিন্তু তাই বলে তার সমমান এবং মর্যাদাকে তুচছ তাচ্ছিল্য করা এবং সেটিকে ধূলায় মিশিয়ে দেয়া মোটেই সমর্থন করতে পারিনা। সৈয়দ আশরাফ যেটা করেছেন সেটি করে তিনি এবং তার দল সংকীর্ণ মনের পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতে এমন নীচু মনের বক্তব্য পেশ করা অশোভন হয়েছে।
এটি করে তিনি এবং তার সরকার নোবেল কর্তৃপক্ষ তথা ইউরোপীয় সম্প্রদায়কে চটিয়েছেন, হিলারী ক্লিন্টন তথা আমেরিকাকে নাখোশ করেছেন, বিশ্ব ব্যাংককে অসন্তুষ্ট করেছেন। এদিকে দেশের মধ্যে আওয়ামী সরকার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮টি দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এসব করে দেশকে তিনি কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? ৭০ দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের সময় মরহুম অর্থনীতিবিদ ড. মাজহারুল ইসলাম বলেছিলেন,‘‘সরকার দেশটি দ্রুত রসাতলের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।’’ বর্তমান সরকারও সেই পথেই ধাবিত হচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
Email: asifarsalan15@gmail.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন