ড. এম শামসুল আলম
কালের কণ্ঠ' পত্রিকায় প্রকাশিত আগের লেখায় এশিয়া এনার্জির দ্বারা ফুলবাড়ী খনি থেকে উৎপাদিত কয়লায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে বলেছিলাম, পোস্ট ডেটেড চেকে যেমন ক্রাসিং ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়া যায় না, তেমনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী খনির কয়লা তোলা হবে না, বিদ্যুৎও পাওয়া যাবে না। তারই ধারাবাহিকতায় এ প্রবন্ধটি প্রকাশ করা হলো। ২০০৭ সালের ২৩ থেকে ২৭ ডিসেম্বর আমরা ভারতের কতিপয় ভূ-গর্ভস্থ ও উন্মুক্ত কয়লাখনি পরিদর্শন করি। খনি দেখে এবং নকশা ও পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করি। তাতে দেখা যায়, উন্মুক্ত খনিগুলোর গড় গভীরতা প্রায় ১১০ মিটার। এর অধিক গভীরতায় সাধারণত কয়লা তোলা হয় ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে। এ উভয় পদ্ধতির সম্মিলিত ব্যবহার হয়- এমন একটি খনি, কাতরাস এলাকায় পশ্চিম মোদিদী। এই খনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ১১১.৩৪ মিটার গভীরতা অবধি কয়লা তোলা হয়। স্ট্রিপিং অনুপাত [এক টন কয়লা উত্তোলনে কতগুণ মাটি (ওভারবার্ডেন) সরাতে হয়] ৩.৬০। খনির ঢালে রাস্তা বানিয়ে সেই রাস্তায় ট্রাকে কয়লা ও ওভারবার্ডেন তোলা হয়। অতঃপর ১৬৫.৫৪ মিটার গভীরতা পর্যন্ত কয়লা তোলা হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে। অপর একটি খনি সোনপুর বাজারিয়া। বর্তমানে সেখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ৬০ মিটার গভীরতায় কয়লা তোলা হচ্ছে। আগামীতে ১১৭ মিটার গভীরতা অবধি কয়লা তোলা হবে। স্ট্রিপিং অনুপাত ৪.৭২। খনির ঢাল প্রায় উল্লম্ব বরাবর। খনির পাশেই ওভারবার্ডেন টিলা। উচ্চতা ৬০ মিটার। টিলার ঢালও প্রায় উল্লম্ব। কয়লা ও ওভারবার্ডেন তোলা হয় ডাম্পারের (ধারণ ক্ষমতা ৩৫-১২০ ঘনমিটার) সাহায্যে। পরিকল্পনায় আছে, আরো গভীরতায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হবে। সে ক্ষেত্রে স্ট্রিপিং অনুপাত ৫.১৯। তারও বেশি গভীরতায় ভূ-গর্ভস্থ খনি হবে। এই খনিতে বিনিয়োগকৃত মোট মূলধন ৬৬০ কোটি রুপি। তন্মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ৩৫০ কোটি রুপি। তবে এই খনির উৎপাদিত কয়লা বিদেশে রপ্তানি হয় না। কয়লার কোনো ভাগ বিশ্বব্যাংক পায় না। এসব খনি এলাকা খুবই শুষ্ক ও পরিত্যক্ত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ মিটার ওপরে। ওইসব এলাকার মানুষ কৃষিজীবী নয়। জমিগুলোও কৃষির অনুপযোগী। ভূ-প্রকৃতি পাথুরে। ভূগর্ভে কোনো জলাধার নেই। আশপাশেও নদী-নালা বা কোনো জলাশয় নেই। বৃষ্টিপাত কম। ওভারবার্ডেন ধসে পড়ে না এবং খনির ঢালে ধস নামে না। বৃষ্টিতে খনি প্লাবিত হয় না। তবে বর্ষায় যতটুকু পানি জমে, তা সহজেই পাম্পের সাহায্যে তুলে খনি শুষ্ক রাখা যায়। জনবসতি খুবই পাতলা। পরিবেশ রক্ষায় এসিড মাইন ড্রেনেজ ম্যাটেরিয়াল (AMD) নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। সোনপুর বাজারিয়া খনির কারণে চারটি গ্রামের প্রায় ২১০০ লোক উচ্ছেদ হয়। গণ-অসন্তোষ আছে। চাকরির দাবিতে কিছু লোককে খনি এলাকাস্থ অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করতে দেখেছি।
চিনাকুড়ির মাইন-১ ভারতের একমাত্র গভীরতম ভূ-গর্ভস্থ খনি। গভীরতা প্রায় ৬৭০ মিটার। এই খনির উৎপাদন শুরু হয় ১৯৪৫ সালে। ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে আমরা ওই খনি দেখার জন্য খনির অভ্যন্তরে প্রবেশ করি। খনির কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করি; এবং অনুধাবন করি, খনির অভ্যন্তরের তাপমাত্রা, পাহাড়ি ছড়ার মতো বয়ে যাওয়া পানি, নির্গত বিস্ফোরক গ্যাস, ছাদ, দেয়াল, পিলার, আলো-বাতাস- এগুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং সেখানকার পরিবেশ জীবনের উপযোগী রাখা হচ্ছে। একসময় আমরা জানলাম, দামুদর নদী আমাদের মাথার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এই খনির প্রতি টন কয়লার উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার রুপি। কয়লার মূল্যের দিক দিয়ে এই খনি মারাত্মক লোকসানি। কিন্তু বাস্তবে এই খনি খুবই লাভজনক। কারণ, কোল-ইন্ডিয়া এই খনি থেকে কয়লা আহরণ করেছে নামমাত্র। তবে জ্ঞান আহরণ করেছে অভাবনীয়, যা ভারতের কয়লা খাতের প্রায় ২০০ বছরের অভিজ্ঞতাকে করেছে সুসমৃদ্ধ। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল-ইন্ডিয়া ছাড়া ব্যক্তি/গোষ্ঠী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারীর পক্ষে এ ধরনের খনিতে আগ্রহী হওয়া সম্ভব ছিল না। আমরা ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে যখন ধানবাদে ইন্ডিয়ান স্কুল অব মাইনস পরিদর্শন করি এবং ঘুরেফিরে ভৌত অবকাঠামো দেখি, তখন অনুভব করি, ওইসব খনি থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত এই প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নানাভাবে নতুন নতুন জ্ঞানের জন্ম দেয়। কয়লা খাতে মূল্যবান দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে। সেই জ্ঞান ও দক্ষ মানবসম্পদে ভারত আজ কতই না সমৃদ্ধ! ভারত তার কয়লাসম্পদ বিদেশে রপ্তানির পরিবর্তে ওই লব্ধ জ্ঞান ও মানবসম্পদ বিদেশে রপ্তানিতে মনোযোগী। প্রমাণ 'কোল-বিদেশ'। আর অভ্যন্তরীণ বাজারে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে কয়লা বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করেছে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের প্রায় সব খনিতেই কয়লা রয়েছে ভূ-গর্ভের অনেক গভীরে। ফুলবাড়ীতে ৩৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত উন্মুক্ত খনি হবে; এবং স্ট্রিপিং অনুপাত হবে ৭.৪৮। ভারতের ধারণায়, স্ট্রিপিং অনুপাত ৫.২০ অবধি উন্মুক্ত খনি হতে পারে লাভজনক, যদি ভূ-প্রকৃতি ওপরে বর্ণিত খনিগুলোর অনুরূপ হয়। অবশ্য এই ধারণা পরীক্ষিত নয়। তবে কোনোভাবে স্ট্রিপিং অনুপাত ৭.৪৮ অবধি উন্মুক্ত খনি হতে পারে- এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। তা ছাড়া ফুলবাড়ী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২৫ মিটার ওপরে। আবার কয়লা স্তরের ওপরে রয়েছে বিশাল সুপেয় নবায়নযোগ্য জলাধার। খনি এলাকা তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমিসমৃদ্ধ। ঘনবসতিপূর্ণ। খনির কারণে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উচ্ছেদ হবে। ২.২ লাখ মানুষ হবে ক্ষতিগ্রস্ত। খনি শুষ্ক রাখার জন্য ভূ-গর্ভস্থ সমুদয় পানি নিষ্কাশিত হতে হবে। ফলে মরুকরণ বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ফুলবাড়ীর উচ্চতা অনেক কম হওয়ায় খনি শুষ্ক রাখা সহজ হবে না। উল্লেখ্য, ভূগর্ভে পানি প্রবাহ সংরক্ষণার্থে খনি এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনার জন্য এশিয়া এনার্জি যে মডেল প্রস্তাব করেছে, তা পরীক্ষিত ও প্রমাণিত নয় বিধায় তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তা ছাড়া ফুলবাড়ীর মাটি নরম ও আর্দ্র হওয়ায় খনির পাড় ও ঢালের ধস ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে। খনির পাড়ে ১২০ মিটার উঁচু ওভারবার্ডেনের টিলা সৃষ্টি হবে। ফলে প্রতি বর্গফুটে ১৮ টন চাপ মাটির ওপর পড়বে। এই চাপ ফুলবাড়ীর মাটি বহন করতে পারবে কি না, তা জানা নেই। বর্ষা-বাদলে খনি প্লাবিত হবে। টিলা ও খনির ঢালের ধস নামা ঠেকানো কিভাবে সম্ভব হবে? কয়লা ও ওভারবার্ডেন তোলায় অধিক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাম্পার ব্যবহারও সহজ হবে না। কারণ, এর ওজন ফুলবাড়ীর মাটির পক্ষে বহন করা সম্ভব বলে মনে হয় না। আবার খনির ঢালে রাস্তা তৈরি করে সেই রাস্তায় ট্রাকের সাহায্যে এই উত্তোলন কাজও কঠিন হবে। কারণ, পাড় ও ঢাল ধসে যাওয়ায় রাস্তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ফলে খনির ঢাল অত্যধিক আনুভূমিক করার দরকার হতে পারে। তাতে আরো বেশি কৃষিজমি বিলীন হবে। তাতেও শেষ রক্ষা নাও হতে পারে।
তা ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় কাদামাটির প্রলেপে টিলার ভেতর দূষণ AMD ঢেকে রাখার জন্য এশিয়া এনার্জি যে প্রস্তাব করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা বিতর্কিত। যেখানে ঢাকার পানি দূষণ রোধে হাইকোর্টকে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করতে হয়, সেখানে কয়লাখনির এই দূষণের প্রতিকার কি প্রত্যাশা করা যায়? তা ছাড়া খননকাজ কয়লা স্তরে পেঁৗছার আগেই খনি ধ্বংস হতে পারে- এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে জন, জমি ও জল ধ্বংস হবে। এই আশঙ্কায় ইতিমধ্যে ফুলবাড়ীর মানুষ এই খনির প্রতিবাদে জীবন ও রক্ত দিয়েছে। তাই সরকার সেখানকার মানুষের সঙ্গে উন্মুক্ত খনি না করার অঙ্গীকার করে চুক্তিবদ্ধ হয়। আবার সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি আইন, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত কারণে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী খনি উন্নয়ন প্রস্তাব নাকচ করে। তাই উন্মুক্ত খনি সব ক্ষেত্রেই লাভজনক ও সফল- এমন কথা ঢালাওভাবে বলা যায় না। এখানে আরো উল্লেখ করা দরকার, খনির কারণে ক্ষতি হতো ২০০৪-০৫ অর্থবছরের বাজারমূল্যে খনি এলাকার (৭০ বর্গকিলোমিটার) কৃষি খাত থেকে অর্জিত আয় বাবদ বছরে ৪৫০ কোটি টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যে তা এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ও জমির মূল্য এখানে ধরা হয়নি। তা ছাড়া বরেন্দ্র ইউনিট-২ প্রকল্পের আওতায় ১৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর, জয়পুরহাট, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় সেচ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন হবে, যার বর্তমান আর্থিক মূল্য ২০২৩ কোটি এবং অর্থনৈতিক মূল্যমান ৪৩৩১ কোটি টাকা। এশিয়া এনার্জির প্রস্তাবিত ফুলবাড়ী কয়লাখনি হলে এই সেচ প্রকল্প কখনো আলোর মুখ দেখত না। পক্ষান্তরে এশিয়া এনার্জির কাছ থেকে বাংলাদেশ পেত খনিকালীন (৩৫ বছর) বছরে ১৪০০ কোটি টাকা। এখন হয়তো তা হতো ২০০০ কোটি টাকা। তা ছাড়া এডিবির অর্থায়নে (প্রায় এক বিলিয়ন ডলার) রেলওয়ে খাতের উন্নয়ন হতো। এই ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের প্রাপ্ত অর্থের অনেকটাই খরচ হতো। এসব কারণে বাংলাদেশে উন্মুক্ত কয়লাখনি বাস্তবসম্মত নয়। সরকার যত তাড়াতাড়ি তা অনুধাবন করতে সক্ষম হবে, দেশ ও দশের ক্ষতি ততই কম হবে। নাইকো এবং এশিয়া এনার্জির মতো অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ কম্পানি কোনোভাবেই কোনো দেশে গ্যাস ও কয়লা তোলার সুযোগ পায় না। অথচ আমাদের দেশে পায়। আমাদের শাসকগোষ্ঠী এসব কম্পানির স্বার্থ রক্ষায় শুধু নিজেদেরই নিয়োজিত রাখে না, আগের কখনো কখনো জনগণের বিরুদ্ধেও দাঁড়ায়। এমনকি মানুষের ওপর গুলি চালায় এবং জীবনও নেয়।
এলাকা, দেশ ও অঞ্চল ভেদে জিওলজিক্যাল ও হাইড্রোলজিক্যাল ভিন্নতার কারণে কয়লাখনির পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হতে বাধ্য। সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সেই পদ্ধতি নির্ধারণে অবশ্যই বিবেচনা করার দরকার হয়। নইলে নন্দীগ্রাম বা ফুলবাড়ীর মতো ঘটনা ঘটতেই পারে। উন্মুক্ত খনি হলে খনির ৯০-৯৫ ভাগ কয়লা উত্তোলন করা যায়। তার জন্য কী ধরনের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করতে হয়, সবার আগে তা বিবেচনায় নিতে হবে। জার্মানির হামব্যাচ উন্মুক্ত কয়লাখনি দেখে এ দেশে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের নিকট যে সুপারিশ করেছে, দেশবাসীর জন্য তা বড়ই উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশ ও জার্মানির কয়লা-বেসিনগুলোর হাইড্রো-জিওলজিক্যাল অবস্থার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে কয়লা স্তরের ওপরের বিস্তীর্ণ জলাধার জার্মানির মতো শক্ত শিলাস্তর দ্বারা আবদ্ধ/আবৃত নয়। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত ১২০ মিটার গভীরতার বেশি গভীরতায় উন্মুক্ত কয়লাখনি হতে দেখা যায়নি। এ অবস্থায় কয়লা স্তরের গভীরতা এবং তার ওপর বিশাল জলাধার বাংলাদেশকে উন্মুক্ত কয়লাখনির অনুপযোগী করেছে।
লেখক : জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
কালের কণ্ঠ' পত্রিকায় প্রকাশিত আগের লেখায় এশিয়া এনার্জির দ্বারা ফুলবাড়ী খনি থেকে উৎপাদিত কয়লায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে বলেছিলাম, পোস্ট ডেটেড চেকে যেমন ক্রাসিং ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়া যায় না, তেমনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী খনির কয়লা তোলা হবে না, বিদ্যুৎও পাওয়া যাবে না। তারই ধারাবাহিকতায় এ প্রবন্ধটি প্রকাশ করা হলো। ২০০৭ সালের ২৩ থেকে ২৭ ডিসেম্বর আমরা ভারতের কতিপয় ভূ-গর্ভস্থ ও উন্মুক্ত কয়লাখনি পরিদর্শন করি। খনি দেখে এবং নকশা ও পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করি। তাতে দেখা যায়, উন্মুক্ত খনিগুলোর গড় গভীরতা প্রায় ১১০ মিটার। এর অধিক গভীরতায় সাধারণত কয়লা তোলা হয় ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে। এ উভয় পদ্ধতির সম্মিলিত ব্যবহার হয়- এমন একটি খনি, কাতরাস এলাকায় পশ্চিম মোদিদী। এই খনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ১১১.৩৪ মিটার গভীরতা অবধি কয়লা তোলা হয়। স্ট্রিপিং অনুপাত [এক টন কয়লা উত্তোলনে কতগুণ মাটি (ওভারবার্ডেন) সরাতে হয়] ৩.৬০। খনির ঢালে রাস্তা বানিয়ে সেই রাস্তায় ট্রাকে কয়লা ও ওভারবার্ডেন তোলা হয়। অতঃপর ১৬৫.৫৪ মিটার গভীরতা পর্যন্ত কয়লা তোলা হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে। অপর একটি খনি সোনপুর বাজারিয়া। বর্তমানে সেখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ৬০ মিটার গভীরতায় কয়লা তোলা হচ্ছে। আগামীতে ১১৭ মিটার গভীরতা অবধি কয়লা তোলা হবে। স্ট্রিপিং অনুপাত ৪.৭২। খনির ঢাল প্রায় উল্লম্ব বরাবর। খনির পাশেই ওভারবার্ডেন টিলা। উচ্চতা ৬০ মিটার। টিলার ঢালও প্রায় উল্লম্ব। কয়লা ও ওভারবার্ডেন তোলা হয় ডাম্পারের (ধারণ ক্ষমতা ৩৫-১২০ ঘনমিটার) সাহায্যে। পরিকল্পনায় আছে, আরো গভীরতায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হবে। সে ক্ষেত্রে স্ট্রিপিং অনুপাত ৫.১৯। তারও বেশি গভীরতায় ভূ-গর্ভস্থ খনি হবে। এই খনিতে বিনিয়োগকৃত মোট মূলধন ৬৬০ কোটি রুপি। তন্মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ৩৫০ কোটি রুপি। তবে এই খনির উৎপাদিত কয়লা বিদেশে রপ্তানি হয় না। কয়লার কোনো ভাগ বিশ্বব্যাংক পায় না। এসব খনি এলাকা খুবই শুষ্ক ও পরিত্যক্ত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ মিটার ওপরে। ওইসব এলাকার মানুষ কৃষিজীবী নয়। জমিগুলোও কৃষির অনুপযোগী। ভূ-প্রকৃতি পাথুরে। ভূগর্ভে কোনো জলাধার নেই। আশপাশেও নদী-নালা বা কোনো জলাশয় নেই। বৃষ্টিপাত কম। ওভারবার্ডেন ধসে পড়ে না এবং খনির ঢালে ধস নামে না। বৃষ্টিতে খনি প্লাবিত হয় না। তবে বর্ষায় যতটুকু পানি জমে, তা সহজেই পাম্পের সাহায্যে তুলে খনি শুষ্ক রাখা যায়। জনবসতি খুবই পাতলা। পরিবেশ রক্ষায় এসিড মাইন ড্রেনেজ ম্যাটেরিয়াল (AMD) নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। সোনপুর বাজারিয়া খনির কারণে চারটি গ্রামের প্রায় ২১০০ লোক উচ্ছেদ হয়। গণ-অসন্তোষ আছে। চাকরির দাবিতে কিছু লোককে খনি এলাকাস্থ অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করতে দেখেছি।
চিনাকুড়ির মাইন-১ ভারতের একমাত্র গভীরতম ভূ-গর্ভস্থ খনি। গভীরতা প্রায় ৬৭০ মিটার। এই খনির উৎপাদন শুরু হয় ১৯৪৫ সালে। ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে আমরা ওই খনি দেখার জন্য খনির অভ্যন্তরে প্রবেশ করি। খনির কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করি; এবং অনুধাবন করি, খনির অভ্যন্তরের তাপমাত্রা, পাহাড়ি ছড়ার মতো বয়ে যাওয়া পানি, নির্গত বিস্ফোরক গ্যাস, ছাদ, দেয়াল, পিলার, আলো-বাতাস- এগুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং সেখানকার পরিবেশ জীবনের উপযোগী রাখা হচ্ছে। একসময় আমরা জানলাম, দামুদর নদী আমাদের মাথার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এই খনির প্রতি টন কয়লার উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার রুপি। কয়লার মূল্যের দিক দিয়ে এই খনি মারাত্মক লোকসানি। কিন্তু বাস্তবে এই খনি খুবই লাভজনক। কারণ, কোল-ইন্ডিয়া এই খনি থেকে কয়লা আহরণ করেছে নামমাত্র। তবে জ্ঞান আহরণ করেছে অভাবনীয়, যা ভারতের কয়লা খাতের প্রায় ২০০ বছরের অভিজ্ঞতাকে করেছে সুসমৃদ্ধ। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল-ইন্ডিয়া ছাড়া ব্যক্তি/গোষ্ঠী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারীর পক্ষে এ ধরনের খনিতে আগ্রহী হওয়া সম্ভব ছিল না। আমরা ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে যখন ধানবাদে ইন্ডিয়ান স্কুল অব মাইনস পরিদর্শন করি এবং ঘুরেফিরে ভৌত অবকাঠামো দেখি, তখন অনুভব করি, ওইসব খনি থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত এই প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নানাভাবে নতুন নতুন জ্ঞানের জন্ম দেয়। কয়লা খাতে মূল্যবান দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে। সেই জ্ঞান ও দক্ষ মানবসম্পদে ভারত আজ কতই না সমৃদ্ধ! ভারত তার কয়লাসম্পদ বিদেশে রপ্তানির পরিবর্তে ওই লব্ধ জ্ঞান ও মানবসম্পদ বিদেশে রপ্তানিতে মনোযোগী। প্রমাণ 'কোল-বিদেশ'। আর অভ্যন্তরীণ বাজারে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে কয়লা বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করেছে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের প্রায় সব খনিতেই কয়লা রয়েছে ভূ-গর্ভের অনেক গভীরে। ফুলবাড়ীতে ৩৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত উন্মুক্ত খনি হবে; এবং স্ট্রিপিং অনুপাত হবে ৭.৪৮। ভারতের ধারণায়, স্ট্রিপিং অনুপাত ৫.২০ অবধি উন্মুক্ত খনি হতে পারে লাভজনক, যদি ভূ-প্রকৃতি ওপরে বর্ণিত খনিগুলোর অনুরূপ হয়। অবশ্য এই ধারণা পরীক্ষিত নয়। তবে কোনোভাবে স্ট্রিপিং অনুপাত ৭.৪৮ অবধি উন্মুক্ত খনি হতে পারে- এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। তা ছাড়া ফুলবাড়ী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২৫ মিটার ওপরে। আবার কয়লা স্তরের ওপরে রয়েছে বিশাল সুপেয় নবায়নযোগ্য জলাধার। খনি এলাকা তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমিসমৃদ্ধ। ঘনবসতিপূর্ণ। খনির কারণে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উচ্ছেদ হবে। ২.২ লাখ মানুষ হবে ক্ষতিগ্রস্ত। খনি শুষ্ক রাখার জন্য ভূ-গর্ভস্থ সমুদয় পানি নিষ্কাশিত হতে হবে। ফলে মরুকরণ বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ফুলবাড়ীর উচ্চতা অনেক কম হওয়ায় খনি শুষ্ক রাখা সহজ হবে না। উল্লেখ্য, ভূগর্ভে পানি প্রবাহ সংরক্ষণার্থে খনি এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনার জন্য এশিয়া এনার্জি যে মডেল প্রস্তাব করেছে, তা পরীক্ষিত ও প্রমাণিত নয় বিধায় তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তা ছাড়া ফুলবাড়ীর মাটি নরম ও আর্দ্র হওয়ায় খনির পাড় ও ঢালের ধস ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে। খনির পাড়ে ১২০ মিটার উঁচু ওভারবার্ডেনের টিলা সৃষ্টি হবে। ফলে প্রতি বর্গফুটে ১৮ টন চাপ মাটির ওপর পড়বে। এই চাপ ফুলবাড়ীর মাটি বহন করতে পারবে কি না, তা জানা নেই। বর্ষা-বাদলে খনি প্লাবিত হবে। টিলা ও খনির ঢালের ধস নামা ঠেকানো কিভাবে সম্ভব হবে? কয়লা ও ওভারবার্ডেন তোলায় অধিক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাম্পার ব্যবহারও সহজ হবে না। কারণ, এর ওজন ফুলবাড়ীর মাটির পক্ষে বহন করা সম্ভব বলে মনে হয় না। আবার খনির ঢালে রাস্তা তৈরি করে সেই রাস্তায় ট্রাকের সাহায্যে এই উত্তোলন কাজও কঠিন হবে। কারণ, পাড় ও ঢাল ধসে যাওয়ায় রাস্তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ফলে খনির ঢাল অত্যধিক আনুভূমিক করার দরকার হতে পারে। তাতে আরো বেশি কৃষিজমি বিলীন হবে। তাতেও শেষ রক্ষা নাও হতে পারে।
তা ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় কাদামাটির প্রলেপে টিলার ভেতর দূষণ AMD ঢেকে রাখার জন্য এশিয়া এনার্জি যে প্রস্তাব করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা বিতর্কিত। যেখানে ঢাকার পানি দূষণ রোধে হাইকোর্টকে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করতে হয়, সেখানে কয়লাখনির এই দূষণের প্রতিকার কি প্রত্যাশা করা যায়? তা ছাড়া খননকাজ কয়লা স্তরে পেঁৗছার আগেই খনি ধ্বংস হতে পারে- এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে জন, জমি ও জল ধ্বংস হবে। এই আশঙ্কায় ইতিমধ্যে ফুলবাড়ীর মানুষ এই খনির প্রতিবাদে জীবন ও রক্ত দিয়েছে। তাই সরকার সেখানকার মানুষের সঙ্গে উন্মুক্ত খনি না করার অঙ্গীকার করে চুক্তিবদ্ধ হয়। আবার সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি আইন, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত কারণে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী খনি উন্নয়ন প্রস্তাব নাকচ করে। তাই উন্মুক্ত খনি সব ক্ষেত্রেই লাভজনক ও সফল- এমন কথা ঢালাওভাবে বলা যায় না। এখানে আরো উল্লেখ করা দরকার, খনির কারণে ক্ষতি হতো ২০০৪-০৫ অর্থবছরের বাজারমূল্যে খনি এলাকার (৭০ বর্গকিলোমিটার) কৃষি খাত থেকে অর্জিত আয় বাবদ বছরে ৪৫০ কোটি টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যে তা এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ও জমির মূল্য এখানে ধরা হয়নি। তা ছাড়া বরেন্দ্র ইউনিট-২ প্রকল্পের আওতায় ১৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর, জয়পুরহাট, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় সেচ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন হবে, যার বর্তমান আর্থিক মূল্য ২০২৩ কোটি এবং অর্থনৈতিক মূল্যমান ৪৩৩১ কোটি টাকা। এশিয়া এনার্জির প্রস্তাবিত ফুলবাড়ী কয়লাখনি হলে এই সেচ প্রকল্প কখনো আলোর মুখ দেখত না। পক্ষান্তরে এশিয়া এনার্জির কাছ থেকে বাংলাদেশ পেত খনিকালীন (৩৫ বছর) বছরে ১৪০০ কোটি টাকা। এখন হয়তো তা হতো ২০০০ কোটি টাকা। তা ছাড়া এডিবির অর্থায়নে (প্রায় এক বিলিয়ন ডলার) রেলওয়ে খাতের উন্নয়ন হতো। এই ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের প্রাপ্ত অর্থের অনেকটাই খরচ হতো। এসব কারণে বাংলাদেশে উন্মুক্ত কয়লাখনি বাস্তবসম্মত নয়। সরকার যত তাড়াতাড়ি তা অনুধাবন করতে সক্ষম হবে, দেশ ও দশের ক্ষতি ততই কম হবে। নাইকো এবং এশিয়া এনার্জির মতো অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ কম্পানি কোনোভাবেই কোনো দেশে গ্যাস ও কয়লা তোলার সুযোগ পায় না। অথচ আমাদের দেশে পায়। আমাদের শাসকগোষ্ঠী এসব কম্পানির স্বার্থ রক্ষায় শুধু নিজেদেরই নিয়োজিত রাখে না, আগের কখনো কখনো জনগণের বিরুদ্ধেও দাঁড়ায়। এমনকি মানুষের ওপর গুলি চালায় এবং জীবনও নেয়।
এলাকা, দেশ ও অঞ্চল ভেদে জিওলজিক্যাল ও হাইড্রোলজিক্যাল ভিন্নতার কারণে কয়লাখনির পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হতে বাধ্য। সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সেই পদ্ধতি নির্ধারণে অবশ্যই বিবেচনা করার দরকার হয়। নইলে নন্দীগ্রাম বা ফুলবাড়ীর মতো ঘটনা ঘটতেই পারে। উন্মুক্ত খনি হলে খনির ৯০-৯৫ ভাগ কয়লা উত্তোলন করা যায়। তার জন্য কী ধরনের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করতে হয়, সবার আগে তা বিবেচনায় নিতে হবে। জার্মানির হামব্যাচ উন্মুক্ত কয়লাখনি দেখে এ দেশে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের নিকট যে সুপারিশ করেছে, দেশবাসীর জন্য তা বড়ই উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশ ও জার্মানির কয়লা-বেসিনগুলোর হাইড্রো-জিওলজিক্যাল অবস্থার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে কয়লা স্তরের ওপরের বিস্তীর্ণ জলাধার জার্মানির মতো শক্ত শিলাস্তর দ্বারা আবদ্ধ/আবৃত নয়। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত ১২০ মিটার গভীরতার বেশি গভীরতায় উন্মুক্ত কয়লাখনি হতে দেখা যায়নি। এ অবস্থায় কয়লা স্তরের গভীরতা এবং তার ওপর বিশাল জলাধার বাংলাদেশকে উন্মুক্ত কয়লাখনির অনুপযোগী করেছে।
লেখক : জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন