রবিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১২

পাকিস্তানে সুপ্রিম কোর্ট ও ক্যান্টনমেন্ট সমানে সমান!


মিজানুর রহমান খান | তারিখ: ৩০-০৪-২০১২



পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ২৬ এপ্রিল ৩০ সেকেন্ডের যে প্রতীকী দণ্ড দিয়েছেন, তা পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম। বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশ পায়নি। তবে সংক্ষিপ্ত আদেশ পড়ে প্রতীয়মান হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এ বেঞ্চ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ থেকে গিলানির প্রস্থান চাইছেন। কিন্তু এই আদেশ ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নসাপেক্ষ। 
আমার প্রাথমিক মন্তব্য হচ্ছে, নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ামাত্রই গিলানি প্রধানমন্ত্রীর পদে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন বলে যে মন্তব্য করছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এর নৈতিক ভিত্তি যদিও বা আছে, সাংবিধানিক কোনো ভিত্তি নেই। তাঁকে অবৈধ বলা একটা বাগাড়ম্বর।
সুপ্রিম কোর্টে দণ্ডিত হওয়ার পর গিলানি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতেন, তাহলে তিনি নৈতিকতার দিক থেকে একটি অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেন। সেই সুযোগ তাঁর ও পিপিপির সামনে খোলা থাকছে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের সামনেও আপিলকালে তার রায়ের ত্রুটি শোধরানোর পথ খোলা।
‘ডার্টি মানি’র স্বর্গরাজ্য সুইসব্যাংক। আমাদের দেশি ভ্রাতঃগণও হয়তো পিছিয়ে নেই। ১/১১তে ক্লেম্যান আয়ল্যান্ডে মিলিয়ন ডলার লুকানোর গল্প শুনেছিলাম। সুইস তদন্তকারীরা বেনজির ভুট্টোর এক লাখ ১৭ হাজার পাউন্ডের হীরার অলংকারসহ ভার্জিন আয়ল্যান্ডে পাওয়া জারদারি দম্পতির ১২ মিলিয়ন ডলার জব্দ করেছিলেন। ২০০৩ সালে সুইসকোর্টে ৫০ হাজার ডলার জরিমানাসহ তাঁরা দণ্ডিত হয়েছিলেন। দণ্ডিত রাষ্ট্রপতির পর পাকিস্তান পেল দণ্ডিত প্রধানমন্ত্রী। জারদারি আপিল করেছিলেন। সেই মামলাই বিচারাধীন ছিল, সুপ্রিম কোর্ট যা পুনরুজ্জীবিত করতে সুইস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিতে গিলানিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। 
জেনারেল পারভেজ মোশাররফ প্রধান বিচারপতি ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে নজিরবিহীন উপায়ে বরখাস্ত করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ আইনজীবী সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানজুড়ে এক অসাধারণ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এর ফলে অপসারিত প্রধান বিচারপতি আবার স্বপদে ফেরেন। কিন্তু পিপিপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের সংবিধানে লেখা থাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ফৌজদারি কার্যধারা অচল। পাকিস্তানের সংবিধানের ২৪৮ অনুচ্ছেদেও তাই বলা। আমাদের সুপ্রিম কোর্টও এরশাদের একটি মামলায় তেমনই রায় দেন।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ওই যে আদেশটি দিলেন, সেটি কী করে ২৪৮ অনুচ্ছেদের ওই বাধানিষেধ পেরিয়ে যৌক্তিক হতে পারল তার ব্যাখ্যা আমরা পাই না। এটাই আদালতের বিরোধপূর্ণ আদেশটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। 
বিচারপতি নাসির উল মুলকের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চের সংক্ষিপ্ত আদেশটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আক্রমণাত্মক বললে সম্ভবত অত্যুক্তি হবে না। আদালত অবমাননার এই সুয়োমোটো মামলাটি ১৯ জানুয়ারি থেকে ২১ দিন ধরে শুনানি চলেছে। একজন কর্মরত প্রধানমন্ত্রীকে দণ্ডাদেশ দেওয়ার সংক্ষিপ্ত আদেশে অবাক হয়ে দেখি, নির্বাহী বিভাগের পক্ষ থেকে যেসব জ্বলন্ত সাংবিধান প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সে বিষয়ে আদালত একেবারেই নীরব। বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দেওয়া হলো। এর কারণসমূহ পরে লিপিবদ্ধ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা, অমান্য ও অবাধ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি যে তিনি যেভাবে আদালত অবমাননা করেছেন, তাতে বিচার প্রশাসনে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতি বয়ে এনেছে এবং দেশের বিচার বিভাগ উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছে।’ উপহাস বা রিডুক্যুল শব্দটি সুচিন্তিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে সংবিধানের একটি অভিনব বিধানের ফাঁদে ফেলে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সরানোর রাস্তা খুলে যায়। আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশ তাই যেভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের উপায় নির্দেশ করেছে তাতে তাদের প্রজ্ঞা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন না তুলে উপায় থাকে না। 
সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ বলেন, ‘ওপরে উল্লিখিত “ফাইন্ডিংস” ও দণ্ডাদেশের ফলে সংবিধানের ৬৩(১)(ছ) অনুচ্ছেদের শর্তাবলিতে কতিপয় গুরুতর ফলাফল আনতে পারে, যা কি না তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদানের উপশমক ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমতাবস্থায় তাঁকে আজ আদালতের কার্য শেষ হওয়া পর্যন্ত আদালত কক্ষে অন্তরীণ থাকার শাস্তি দেওয়া হলো।’
পাকিস্তানের সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদটিতে সাংসদেরা কী কী কারণে অযোগ্য হতে পারেন তার ফিরিস্তি রয়েছে, যেমন আছে আমাদের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে, যার আওতায় সম্প্রতি সোহেল তাজ ইস্তফা দিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের ওই অনুচ্ছেদটি একটি অনাসৃষ্টি। ১৯৫৬ সালের ৪৫ অনুচ্ছেদ ও ১৯৬৮ সালের ১০৪ অনুচ্ছেদ আজকের পাকিস্তানের ৬৩ অনুচ্ছেদের পূর্বসূরি। এমপি পদ খাওয়ার এমন আজগুবি শর্তাবলি সেখানে দেখি না। এটা প্রথম দেখি বাংলাদেশকে হারানোর পর ১৯৭৩ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোর তৈরি করা নতুন সংবিধানে। সেই সংবিধানে ভুট্টো চালাকি করে পাকিস্তানের ক্ষমতার শাশ্বত সূতিকাগার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জ্যেষ্ঠদের ডিঙিয়ে জিয়াউল হককে তিনি সেনাপ্রধান করেন। জিয়াই তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলান। এই গল্পটা যতটা প্রচার পেয়েছে পিপিপির এই সাংবিধানিক দুষ্কর্ম, যার বিবরণ এখন আমি আপনাদের দেব, সেটা আজও ততটা প্রচার পায়নি। এমনকি আমি হতাশ হচ্ছি, এখনকার পাকিস্তানি নাগরিক সমাজও এ বিষয়ে নীরব। 
আর কী নির্মম পরিহাস, সেই পিপিপি এখন এত বছর পর সেই ৬৩ অনুচ্ছেদের ছ বিধানের ফান্দে পড়েছে। ‘আমি সাধু এবং সম্মানিত’, এ কথা বুকে-পিঠে লিখে যদি কেউ ঘুরে বেড়ান, তাহলে লোকে তাঁকে হয় পাগল, না হয় মতলববাজ হিসেবে সন্দেহ করবেই। ঠিক তেমন করে পিপিপি সম্ভবত ১৯৭৩ সালের সংবিধানেই প্রথম লিখল, ‘যদি কোনো সাংসদ পাকিস্তানের আদর্শের জন্য ক্ষতিকর কোনো মতামত প্রচার কিংবা কোনোভাবে তৎপরতা চালান কিংবা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা বা নৈতিকতা বা জনশৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা পাকিস্তানের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বা তার সাধুতা বা বিচার বিভাগ ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মানহানি বা তাকে ঠাট্টা করেন এবং সে জন্য কোনো উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দণ্ডিত হন এবং ছাড়া পাওয়ার পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয় তাহলে তিনি সাংসদ থাকবেন না।’ 
আমরা পাকিস্তানিদের মতো এবার সামরিক শাসন ঠেকাতে ৭ক অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছি। ভুট্টো সামরিক শাসন জারিকে হাইট্রিজন এবং সে জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছিলেন ওই ’৭৩ সালেই। জলপাই রঙের লোকেরা যাতে খেপে না যায় সে জন্য তিনি ওই নতুন বিধানটি যুক্ত করেন। সুপ্রিম কোর্ট ও ক্যান্টনমেন্টের মর্যাদা সমান করেন। এখন পাকিস্তানের বিরোধী দল লম্ফঝম্ফ দিচ্ছে এই বলে যে গিলানি ক্যান্টনমেন্টকে না হলেও সুপ্রিম কোর্টকে ‘উপহাস’ করেছেন। তাই আদালত থেকে বেরোনোর পর থেকেই তিনি আর পাকিস্তানের বৈধ প্রধানমন্ত্রী নন। 
পিপিপির বর্তমান সরকার বিরোধী দলকে আস্থায় রেখে এক ঐতিহাসিক সাংবিধানিক উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। এ থেকে শিক্ষা নিতে একটু বিশদভাবে বলি। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হয়েছে। ৯০ অনুচ্ছেদ বলেছে, নির্বাহী কর্তৃত্ব রাষ্ট্রপতির নামে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা প্রয়োগ হবে। আর কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দ্বারা গঠিত হবে। আর সেই কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ৯১ অনুচ্ছেদ বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা থাকবে আর সেটি রাষ্ট্রপতিকে তাঁর দায়িত্ব পালনে পরামর্শ দেবে। ৪৮ অনুচ্ছেদ বলেছে, রাষ্ট্রপতি তাঁর সব কার্য পালনে মন্ত্রিসভা কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে চলবেন। আসিফ আলী জারদারি আর বাংলাদেশের ‘কবরস্থানের ফাতেহা পাঠের’ নন। সংবিধান স্পষ্ট বলেছে, যেসব স্থানে নির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দিয়েছে সেসব ক্ষেত্রে তিনি ডিসক্রিশন বা একক কর্তৃত্বে চলবেন, সে ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার পরামর্শ নেবেন না। আর সেই দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত কোনো ধরনের বৈধতার প্রশ্ন কোনো কারণেই তোলা যাবে না। কোনো আদালতই প্রশ্ন করতে পারবেন না মন্ত্রিসভা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কী পরামর্শ দিয়েছেন। 
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষায় থাকব, তাঁরা কীভাবে এসব অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে গিলানিকে দণ্ড দিয়েছেন। শুধু নাম সুপ্রিম কোর্ট বলেই তাঁরা যা খুশি তা-ই করতে পারেন না। ব্যক্তির অজ্ঞতা, হঠকারিতা ও স্বেচ্ছাচারিতার যোগফল ‘আদালত অবমাননা’ বলে গণ্য হতে পারে না। বিশ্বের সব সমাজে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ‘আদালত অবমাননা’ সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। 
সুইস আদালতে একজন কর্মরত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালু করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শুধু রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তিসংক্রান্ত ২৪৮ অনুচ্ছেদ কেন, উক্ত ৪৮ অনুচ্ছেদও মানবেন। সুতরাং প্রশ্ন হলো, সুপ্রিম কোর্ট ২৪৮ ও ৪৮ অনুচ্ছেদের কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আপাতদৃষ্টিতে সংবিধানের লঙ্ঘন ঘটে এমন আদেশ আদৌ দিতে পারেন কি না। এবং তা দিলেও প্রধানমন্ত্রী তা মানতে বাধ্য কি না। 
আমি মনে করি না যে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আপনাআপনি বৈধতা হারিয়েছেন। স্পিকারও প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের উদ্যোগ নিতে পারবেন না পূর্ণাঙ্গ রায় ও আপিলে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত। আদালত নয়, গিলানির অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মজলিস ই শুরা (সংসদ)।
স্যার আইভর জেনিংসের একটি উক্তি মনে পড়ছে। তিনি পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান তৈরির জন্য গঠিত কমিশনের উপদেষ্টা ছিলেন। ‘কোনো সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যদি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে তাহলে তাঁর ক্ষমতা এতটাই অপ্রতিরোধ্য যে রোম সম্রাটও তাঁকে ঈর্ষা করবেন।’ 
পাকিস্তানের বিচার বিভাগের কাছ থেকে এমন সক্রিয়তা চাই না যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে দেয়। বন্দুকের নলের পরিবর্তে আদালতের কলমের খোঁচায় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর অপসারণ বেশি মহীয়ান কিনা, সেই কূটতর্ক বৃথা। পাকিস্তানের জনগণ বন্দুকের দুঃস্বপ্ন ভুলে একজন গিলানিকে ইতিহাসের দীর্ঘকালীন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। 
ওই বেঞ্চটি ভাগ্যিস গিলানিকে তিন মাস বা ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় অবতীর্ণ হয়নি। অল্পের ওপর দিয়ে গেছে। আদালত সর্বতোভাবে একটি এখতিয়ারবহির্ভূত বিষয় অনুশীলন করেছেন কিনা, তা পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরে বলার সুযোগ পাব। তবে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন সত্যি হলে আদালত নিশ্চিতই অপ্রয়োজনীয় বিষয় চর্চা করেছেন। কারণ, সুইস প্রসিকিউটররা সাফ বলেছেন, গিলানি যদি চিঠি লিখতেনও, তাহলেও তাঁরা ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চালাতে অক্ষম থাকতেন। 
ধরা যাক গিলানি চলে গেলেন। পিপিপি নতুন প্রধানমন্ত্রী আনল। তাহলে তো তখনো আদালত অবমাননা ঘটতে পারে। তখন সুপ্রিম কোর্ট কী করবেন? গিলানি আপিল করলে সুপ্রিম কোর্ট এ ক্ষেত্রে ‘ডক্টরিন অব প্রসপেক্টিভ ওভাররুলিং’ (আদালতের আদেশ ভবিষ্যতে কার্যকর হবে) প্রয়োগ করতে পারেন। আসিফ জারদারির ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই সুইসদের কাছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার চিঠি পাঠাবে। এটা বাধ্যতামূলক করে রায় লেখা সম্ভব। পাকিস্তানের জনগণের মতো আমরাও আমজনতার প্রাণের টুকরা ‘গণতন্ত্রের প্রাচ্যকন্যাদের’ (বেনজিরের বইয়ের নাম ডটার অব দি ইস্ট) গোপন রত্নভান্ডার সম্পর্কে তথ্য জানতে এবং তার দায়ে দোষীদের দণ্ড চাই। 
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন