রবিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১২

সখিপুরে মহাপ্রলয় ও কঠিন রাজনৈতিক দুর্যোগ



বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম
আমি নুহ নবীর (আ.) প্রলয় দেখিনি। কিন্তু বহু ঘূর্ণি দুর্বিপাক দেখেছি। স্বাধীনতার পর সিলেট, মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরের ঘূর্ণিদুর্গত এলাকায় অনেকদিন ত্রাণ পরিচালনা করেছি। এই তো কিছুদিন আগে ’৯৬ সালে মিরিকপুরের ঘূর্ণিঝড়ে বাসাইল-সখিপুরে মাসব্যাপী দুর্গত এলাকায় রাতদিন দুস্থদের সেবা করার চেষ্টা করেছি। গত ২১ এপ্রিল শনিবার রাতে সখিপুরের গজারিয়া, কালিয়া, কালমেঘা ও কাকড়াজান ইউনিয়নের ওপর দিয়ে আচমকা বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপক ধ্বংসলীলা এর আগে দেখিনি। গজারিয়া ইউনিয়নের বাঘবেড়, পাথারে হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে গেছে। লাখো কলাগাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যে মাঠে হাজার মণ ধান ফলত, সেখানে এক কেজি ধানও কেউ পাবে না। খুবই আশ্চর্য হয়েছি গজারিয়া মুচারিয়া পাথারের সড়কঘাটা দরগারপাড় শাহ সুফি বদর উদ্দিন শাহ’র মাজার দেখে। যেখানে শীল পড়ে শত শত বাড়িঘরের টিনের চাল ঝাঁঝরা হয়ে ভেঙে খান খান হয়ে গেছে; সেখানে মাজারপাড়ে ঘরের আশপাশে প্রায় দশ-বিশ টন বরফ পড়েছে। অথচ মাজার ঘরের টিনের চালে একটা টোকাও লাগেনি। স্রষ্টার এ কী অলৌকিক কারবার! কাকড়াজানের ঢনঢনিয়া মুচারিয়া চালার একটি ঘরও অক্ষত নেই। ঘরের ঢেউটিন সব সমান হয়ে গেছে। কোনো গাছে ডালপালা নেই, ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তৈলধরার শত শত বাড়ির টিন চালুনছিদ্র হয়ে গেছে। আমি প্রায় চল্লিশ ঘণ্টা পর দুর্গত এলাকায় গিয়েছিলাম। সে সময়ও বরফ গলা শেষ হয়নি। অনেকে বলেছে, ঝড়ের ত্রিশ ঘণ্টা পরও ছয়-সাত কেজি ওজনের বরফ খণ্ড পাওয়া গেছে। ত্রিশ ঘণ্টা পর যদি ছয়-সাত কেজি ওজনের বরফ খণ্ড পাওয়া যায়, তাহলে যখন সেটা পড়েছিল তখন তার ওজন কতটা ছিল, কোনোমতেই ১৫-২০ কেজির কম হবে না। এত ভারী বস্তু আকাশ থেকে পড়লে ঘরের যা অবস্থা হওয়ার তাই হয়েছে। কোনো গাছের ডালপালা নেই, ক্ষেতের ধান নেই। ওই এলাকায় কোনো মানুষের এক ছটাক ধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার এত বড় বড় কথা বলে, কিন্তু কোনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি। কোনো মন্ত্রী-এমপি বা কোনো বড়সড় নেতা দুর্গত এলাকায় যায়নি। বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। বিজয়ের পর এই সাড়ে তিন বছর শুধু নাচানাচি, কনসার্টে মানুষের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। মানুষজন বলছে, আল্লাহর নাম নেই শুধু সার্কাস, জুয়া, হাউজি, উলঙ্গ নাচ। এত বড় বিপর্যয় ও দুর্যোগ হলো, কিন্তু ত্রাণমন্ত্রী আমার এলাকার মানুষ। এক মুহূর্তের জন্যও দুর্গত এলাকায় যাননি। এক ভয়াবহ দুর্বিষহ অবস্থা সেখানে। এখন কী যে হবে দুর্গত এলাকার মানুষের, আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনই জানেন। আমি যখন করটিয়া কলেজে পড়তাম তখন জমিদার পন্নীদের বলতে শুনেছি, ৬০-৭০ বছর আগে তাদের বাপ-চাচারা যখন হাতি চড়ে পাহাড় এলাকায় যেতেন, সখিপুরের পশ্চিমে মাজারপার হজরত শাহ কামালের মাজারের কাছে গেলে হাতি বসে পড়ত। কোনো সওয়ারী নিয়ে ওই এলাকা পার হতে চাইত না। পাশেই ওলিয়ে কামেল হজরত শাহ কামালের মাজার। হাতি সওয়ারী নিয়ে যেতে চায় না—এটা জানাজানি হওয়ার পর আর কখনও করটিয়ার জমিদাররা হাতিতে বসে ওই এলাকা পার হতেন না। নেমে পায়ে হেঁটে পার হতেন। সেই মাজারের পাশে গত তিন মাস সার্কাস হয়েছে, জুয়া হয়েছে, হাউজি হয়েছে, মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য হয়েছে। আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ওসব না করতে কয়েকবার বলেছি। এরা সবাই মুক্তিযুদ্ধে আমার সহকর্মী ছিল। কিন্তু এখন যারা আওয়ামী লীগ করে, তারা কেউ কারও কথা শোনে না। সখিপুরের দাড়িয়াপুর ফালুচান্দের এক জাগ্রত মাজার। সেখানে নানাভাবে পাগলদের হয়রানি করা হয়েছে। বাসাইলের বার্থার নব্বেছ চান্দের মাজারে লাখো মানুষের সমাগম হয়। সেখানে কত কী যে করা হয়েছে। বেয়াদবির সীমা-পরিসীমা নেই। মহানন্দপুর হিন্দু পল্লীতে যেখানে কয়েক হাজার গাছের এক আম বাগানে একটি গাছও অক্ষত নেই, দেখে মর্মাহত হয়েছিলাম। সেখানে বয়সী মুরব্বিরা বড় তীর্যকভাবে বলছিলেন—‘এত জুয়া, হাউজি, সার্কাস আর গান-বাজনা করলে আল্লাহ সেখানে গজব না ফেলে কি রহমত দিতে পারেন?’ মুরব্বিদের কথা শুনে বড় বেশি বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে কি ক্ষমতাসীনদের পাপের শাস্তি আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন দরিদ্র গরিব জনসাধারণকে দেবেন? লাল বানু নামে ১২০-১২৫ বছরের এক বৃদ্ধা আমায় তার ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বেশ কয়েকবার আমায় খাইয়েছিলেন। তার ঘরের একটি টিনও অক্ষত নেই। বড় বড় শিল পড়ে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। তিনি তার ভাঙা চৌকিতে বসিয়ে একটি জাজিম দেখিয়ে বললেন, ‘বাবা, ঘরে ওই জাজিমটা ছিল বলে ওর নিচে গিয়ে শিলের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছি।’ দুর্গত এলাকার মানুষদের দয়া করে আল্লাহ তো জীবন বাঁচিয়েছেন, কিন্তু দয়াময় আল্লাহর দয়া না হলে বর্তমান উদাসীন সরকারের জমানায় তাদের জীবন বাঁচবে কি করে? দয়াময় তুমি আমার মানুষদের বাঁচাও।
যে উত্সাহ নিয়ে শান্তিময় বাংলা বছরের আশা করেছিলাম তা শুরুতেই কেমন যেন ফিকে হয়ে গেল। একেবারে হতাশ না হলেও কিছুটা শঙ্কাবোধ তো করছিই। একবুক জ্বালা নিয়ে ২৪ এপ্রিল ১৮ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জাতীয়তাবাদী দলের পল্টনের কার্যালয় গিয়েছিলাম। তাদের কাছে যা প্রত্যাশা করেছি, তার চেয়ে কম সৌজন্য পাইনি। চারদিকে পুলিশ আর পুলিশ। তারা ছিল খুবই উদ্বিগ্ন। বাড়ির মালিক ভালো না হলে তার কর্মকর্তা-কর্মচারী ভালো হবে কী করে? সরকারের সৌজন্য নেই, সহনশীলতা নেই, কাউকে ন্যূনতম সম্মান দেখানোর কোনো তাগিদ নেই। সেখানে পুলিশরা তো একটা লাঠিয়াল বাহিনী। তারা কিইবা করতে পারে। চারদিক থেকে তাদের ওপর যে পরিমাণ চাপ, অথচ মানবিক গুণাবলীর কিছুই শিক্ষা দেয়া হয়নি। তার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের যে আচরণ দেখি, তাতে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। সেদিনও যে তেমনটি দেখিনি তা নয়। গামছা বিছিয়ে তপ্ত রোদে পল্টনের রাজপথে পড়ে ছিলাম। পল্টন থানার ওসি ও উপ-কমিশনার যথার্থই উপযুক্ত কর্মকর্তার মতন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। আইনানুগ যতটুকু করা দরকার তা তারা করেছেন। সারাদিন তপ্ত রোদে পুড়ে নিম্নস্থ পুলিশ কর্মচারীরা কীভাবে ধৈর্য রাখে, সেটাই তো প্রায় ৫০-৫৫ মিনিট নিচে-উপরে আগুন নিয়ে পিচঢালা রাজপথে শুয়ে থেকে পিঠে ১০-১৫টি ফোসকা ফেলে নিজেই দেখেছি। তাই সবকিছু একতরফাভাবে বলে কোনো লাভ নেই। আমাদের কর্মচারীদের চাইতে কর্মকর্তাদের উদাসীনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বেশি। নেতারা ভালো হলে, সরকার ভালো হলে কর্মকর্তারা অবশ্যই ভালো হতো। ভালো কর্মকর্তা থাকলে দেশের জন্য আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কর্মচারী পেতাম। দুর্ভাগ্য, আমরা তেমন পাইনি। বিএনপি অফিসে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে আমরা যথাযথ রাজনৈতিক আচরণই পেয়েছি। জনাব রুহুল কবীর রিজভীর আচরণও ছিল যথার্থ। আন্দোলনরত প্রধান বিরোধী দলের অফিসে গিয়ে সরকার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি। কাঠফাটা রোদে পল্টনের রাজপথে নেতাকর্মীসহ সস্ত্রীক পড়ে থেকে কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্ত করে বাড়ি ফিরেছি। ওইদিনই প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন ছিল। সৌজন্যের খাতিরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং তার প্রতি সরকারি জুলুম সম্পর্কে কেন যেন একটি কথাও বলেননি। এই একবারও কিছু না বলায় সাধারণ মানুষ যেমন, আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরাও কমবেশি আহত হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক দল থাকে অনেক। সংগ্রামের ধারা সব সময় দুটি। একটি সরকারি, আরেকটি বিরোধী। সরকার সরকারের মতো না চললে সরকারের কানে পানি দেয়ার জন্য বিরোধী দলের ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও মূল লক্ষ্য এক। তা হলো সরকারকে সরকারের মতো চালানো, সেক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল এবং দলনেতার সার্বিক নেতৃত্বই দেশবাসী আশা করে।
২৪ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী দলের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীদের ওভাবে গ্রেফতার করা সভ্য সমাজের বিচারে জঘন্য নিন্দনীয় কাজ। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা ফরিদ আহমেদ, আলমগীর হোসেন, রিপন, আতাউল গনি ওসমানী, আরিফ, কাইয়ুমসহ আরও অনেককে গ্রেফতার করে পল্টন থানার কয়েদখানায় নিয়ে রাখা মোটেই ভালো হয়নি। বিষয়টা সবাইকে খুবই হতাশ এবং মর্মাহত করেছে। দলীয়ভাবে আলোচনা করে একটা বৈঠকে যাওয়ার পর কিছু নেতাকর্মীকে পুলিশের কয়েদখানায় রেখে বাড়ি ফিরতে মন খুব একটা সায় দেয়নি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংগ্রাম করতে চেয়েছি। তাই রাস্তায় শুয়েছিলাম। জনাব গোলাম আজমের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তাই অত কাঠফাটা রোদে প্রকাশ্য দিবালোকে সহধর্মিণী নাসরীন সিদ্দিকীকে পাশে রেখে শুয়ে ছিলাম। সেদিন নতুন করে উপলব্ধি করেছি বিপ্লবী কবি কাজী নজরুলের কথা, ‘কোনদিন একা হয়নি তো জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয়লক্ষ্মী নারী।’ সত্যি পুরুষের পাশে আন্তরিকভাবে কোনো নারী দাঁড়ালে তাকে রোধ করার কোনো শক্তি কারও থাকে না। অতীতে ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না। সেজন্য নাসরীন সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ, গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। আমরা মারামারি, কাটাকাটি করতে যাইনি, গাড়িতে আগুন দিয়ে নিরীহ চালককে পুড়িয়ে মারতে যাইনি। সে সময়ের জন্য আমাদের বিচার-বিবেচনায় যা সবচাইতে বেশি কার্যকরী ও উপযুক্ত মনে হয়েছে, তা-ই করেছি। আমার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক রাজধানীর রাজপথে পড়ে থাকলে যদি দেশ ও জাতির সম্মান বৃদ্ধি হয় তাহলে তা হয়েছে। আর যদি ওইভাবে রাস্তায় পড়ে থাকার কারণ ঘটানোর কাজ করে অন্যায় করে থাকে সরকার ও প্রশাসন এ থেকে সাবধান থাকবে, সেটাই বিবেকবান মানুষ মনে করে। দেশ ও দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও সাধারণ মানুষের জন্য শঙ্কাময় হোক, এটা আমরা চাই না। এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা বা স্বাভাবিক করা সরকারের দায়িত্ব। ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার ঘটনা কোনোমতেই কারও জন্য কাঙ্ক্ষিত নয়। গুম কে করেছে—সরকার না বিরোধী দল, এটা আমাদের কোনো বিবেচ্য নয়। ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না জনসমক্ষে তাকে হাজির করা সরকারের দায়িত্ব, সেটা করতে হবে। যত মোচড়ামুচড়ি করা হোক, এখান থেকে পরিত্রাণের সরকারের কোনো উপায় নেই। ইলিয়াস আলী কী ধরনের লোক ছিল, এগুলো কোনো কৈফিয়তের মধ্যে পড়ে না। সে এদেশের নাগরিক, মানুষ তার খবর চায়। তার পরিবার-পরিজন শঙ্কিত ও ব্যথিত। আমরাও সমভাবে ব্যথিত। তাই আমরাও তাকে চাই। ইদানীং সরকারি দলের যেসব নেতা কথায় কথায় যুদ্ধ করতে চান, যুদ্ধের সময় তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না—এটা ষোল আনা নিশ্চিত। এরা সবাই ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া খেলোয়াড়। একজন আরেকজনকে দোষারোপ করে বাগাড়ম্বর করার কোনো মানেই হয় না। তাই ইলিয়াস আলীর ঘটনা সমাধান করতে হবে। প্রধান বিরোধী দলকেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম করতে হবে। জনগণকে দুঃখ-দুর্দশায় ফেলে শুধু শুধু হরতাল দিয়ে কেউ কোনো আন্দোলন সফল করতে পারেনি। তেমন আন্দোলনের চেষ্টা করলে সেটা ফলপ্রসূ, সফল হবে না। সেজন্য বিরোধী দলের নীতিনির্ধারকদের অনুরোধ জানাব, জনগণের সুবিধা-অসুবিধা, ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে অবমূল্যায়ন করবেন না। উত্তপ্ত অবস্থায় আপনাদের কার্যালয়ে গিয়ে সরকারের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি। তারপরও দেশের স্বার্থে আন্দোলনের ভবিষ্যত্ নিয়ে আপনাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই। উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসানে সরকার, মহাজোট ও তার প্রধান নিয়ন্ত্রক আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলতে আমরা উত্সাহ প্রকাশ করছি। ২৫ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে চিঠি দিয়েছি, টেলিফোনে আলাপ করেছি। আশা করি নিশ্চয়ই সরকার এবং সরকারি দলের দেশের এই নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলার সময় সুযোগ হবে। বিরোধী দলের আবার হরতাল আহ্বানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি এটা কী বলেছেন? আপনি তো পুলিশের মন্ত্রী। আপনি তো পুলিশকে যা বলার বলবেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আপনি বলার কে? আপনি কি আওয়ামী লীগ সভাপতি? নাকি সাধারণ সম্পাদক? নাকি অন্য কিছু? যার যে কাজ, সে কাজ করুন। অন্যের সীমানায় পা দেয়া ভালো নয়। আপনাকে পুলিশের মন্ত্রী বানিয়েছে, পুলিশ নিয়ে থাকুন। আওয়ামী লীগ কর্মী নিয়ে টানাটানি করছেন কেন? আর সবাই না জানলেও আমরা তো জানি, যারা সভানেত্রীর কথা ভালোভাবে মানে না-শোনে না তারা আপনার কতটা কী শুনবে? তাই ওসব না বলে দেশকে বাঁচান। বাতাসের কান্না কান পেতে শুনুন। রেল মন্ত্রণালয়ের ঘুষ-দুর্নীতি আড়াল করতে ইলিয়াস আলীকে গুম, ইলিয়াস আলীর ঘটনার উত্তাপ প্রশমন করতে আবার অন্য কোনো ঘটনা—এসব জাতির কাম্য নয়। মানুষ শান্তি ও স্বস্তিতে থাকতে চায়। তেত্রিশ মাসেও সোহেল তাজের পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়নি। সরকারি তহবিল তছরুপ করে তার অ্যাকাউন্টে মন্ত্রীর বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে। এটা এক জঘন্য দুর্নীতি। ব্যক্তিগত স্বাক্ষর ছাড়া এক মাসের বেতন-ভাতাও কাউকে দেয়া যায় না। তাহলে এই অনিয়ম কী করে সম্ভব? দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। নৈতিকতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে যখন সোহেল তাজ সংসদ সদস্যপদে ইস্তেফা দিয়েছে, তখন সেটা গ্রহণেও গড়িমসি চলছে, এটা ভালো কথা নয়। পণ্ডিতি করে লাভ কী? কত শত অনিয়ম হচ্ছে, অশুদ্ধ কাজ হচ্ছে। সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র তার ইচ্ছে অনুসারে গ্রহণ করলে আর কত কী ক্ষতি হবে? মাননীয় স্পিকার ওটা গ্রহণ করে ফেলুন। মোচড়ামুচড়ি করে লাভ নেই। বাপের বেটা বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদের পুত্র সোহেল তাজ, তারা থুথু ফেলে থুথু চাটার বংশ নয়। সংসদের কার্যপ্রণালীর ১৭৭ বিধির (১) এ বলা হয়েছে, ‘সংসদের আসন হইতে পদত্যাগ করিতে ইচ্ছুক কোনো সদস্য এই মর্মে স্পিকারকে সম্বোধন করিয়া স্বহস্তে লিখিতভাবে জ্ঞাপন করিবেন যে, তিনি তাহার আসন হইতে পদত্যাগ করিতে ইচ্ছুক।’ মাননীয় সংসদ সদস্য সোহেল তাজ স্বহস্তে স্বাক্ষর করেছেন। পুরো লেখাটি তিনি স্বহস্তে লেখেননি, এই অজুহাতে ক’দিন তার পদত্যাগপত্র ঠেকিয়ে রাখা যাবে। লাউয়ের নাম যেমন কদু, ঘাড়ের নাম গর্দান—ঠিক তেমনি যতটুকু লেখাপড়া জানলে স্বহস্তে উপরের কথাগুলো লেখা যায় ততটুকু লেখাপড়া এবং সত্ সাহস মনে হয় সোহেল তাজের আছে। এটা সবার ভালো করেই জানা। লেবু বেশি চিপলে তেতো হয়। সোহেল তাজের ব্যাপার নিয়ে বেশি চাপাচাপি করলে তেতোর চাইতে ভয়ঙ্কর কিছু হতে পারে। তাই অত মুরব্বিপনা না করে সময় থাকতে সাবধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। না হলে পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন