বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১২

দুর্নীতি রোধে ডিগ্রি বাতিলের দায়িত্ব নিতে হবে


প্রফেসর ড. এম এ মান্নান
তারিখ: ২২ নভেম্বর, ২০১২

আমাদের রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক কাঠামোর মূলভিত্তি হচ্ছে হাজার বছরের পরিবার ও সমাজ। তবে আমাদের শিা ও আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং শিা পরিচালনার মূল ভিত্তি হচ্ছে ব্যক্তি। পাশ্চাত্যের পরাধীনতার প্রভাবে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শিানীতি ব্যক্তিস্বার্থের দিয়ে প্রভাবিত হয়েছে। ব্যক্তির এ উত্থানে পরিবার, সমাজ, কৃষ্টির নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বিত উন্নয়ন ও শিানীতি উপেতি হয়েছে। তাই বর্তমান শিাব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে কুশিা ও দুর্নীতির উৎস হয়ে পড়েছে। শিাব্যবস্থায় নৈতিকতার চরম অবয় হয়েছে। এ আর্থসামাজিকতার প্রোপটে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন আমরা দেখি যেখানে শিার্থীর কর্মজীবন সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারস্বরূপ মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত হবে। যেমন এতে এক দিকে শিার্থীর পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে  তেমনি অপর দিকে দুর্নীতিগ্রস্ত শিার্থীর ডিগ্রি বাতিলের ব্যবস্থাও থাকবে। এখানে ছাত্রছাত্রীদের চূড়ান্ত ডিগ্রি দেয়া হবে অবসর বা মৃত্যুর পর। ইসলাম বলে মানুষের মৃত্যুর পর তার সব হিসাব বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি কাজ ছাড়া। হাদিস অনুযায়ী এগুলো হলো (১) জ্ঞানের েেত্র অবদান (২) এমন কোনো দান যা থেকে মানুষ চিরকাল লাভবান হতে থাকবে অর্থাৎ সদকায়ে জারিয়াহ আর (৩) নেক সন্তান।
প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষের মৃত্যুর পরই তার মূল্যায়ন যথার্থ হয়। আর তাই আমার কাক্সিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সারা জীবনের কর্মকাণ্ড ও অর্জন বিবেচনা করে চূড়ান্ত  ডিগ্রি দেয়া হবে। কারণ বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়েও আমরা শিাব্যবস্থায় সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রবিষ্ট করাতে পারিনি। সমাজে সর্বব্যাপী দুর্নীতি। শিতিরাই বেশি দুর্নীতি করছে। আমাদের আমলাতন্ত্র দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। রাজনীতিবিদেরা দুর্নীতিগ্রস্ত। এমনকি শিাব্যবস্থাও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। জনগণ দুর্নীতিপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থাটা কেন? এটা এ কারণে যে, আমাদের শিাব্যবস্থাটাই এমন যেখানে ছাত্রছাত্রীদের নীতি নৈতিকতার শিা দেয়া হয় না। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সার্টিফিকেট দিয়ে বুঝিয়ে দেয় এই জনশক্তিটি আমরা তৈরি করেছি। সে বিএ, এমএ, পিএইচডি প্রভৃতি মানের। বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটা পণ্য উৎপাদনের কারখানার মতো। পণ্য উৎপাদনের পর তার ওপর লেবেল লাগিয়ে দেয়া হয়। ছাত্রের ডিগ্রিটাও একটি লেবেল; কিন্তু কারখানায় কোনো কিছু উৎপাদনের পর সে জিনিসটি ঠিক মতো চালু রাখতে বা সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না সে জন্য একটি সার্ভিসিং সুবিধা দেয়। আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু সেখান থেকে বের হওয়া ছাত্রটি কী করছে তার কোনো খবর রাখে না। তাদের আবার ডেকে এনে পুরনো জ্ঞানের সাথে নতুন জ্ঞানের সংযোগ ঘটানোর কোনো ঘটনা এখানে নেই। কোনো ছাত্র যদি কর্মজীবনে দুর্নীতি করে তাহলে তার ডিগ্রি বাতিলের কোনো বিধান নেই। যন্ত্র নষ্ট হলে আমরা মেরামত করি। যে যন্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না, আমরা সে যন্ত্র কিনি না; কিন্তু মানুষকে আমরা জনশক্তি বললেও তার ‘সার্ভিসিং’ বা ‘আপগ্রেড’ দরকার এ কথা আমরা কেউ বলছি না। অথচ এটা হওয়া উচিত ছিল। উচিত ছিল, যে বিশ্ববিদ্যালয় তার শিার্থীকে নিয়মিত ‘আপগ্রেড’ না করবে তাকে কর্মসংস্থানে নিয়োগ না দেয়া।
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের যুগে এ ধরনের ফলোআপ ব্যবস্থা কঠিন বিষয় নয়। ইংল্যান্ডের ‘হাইগেট স্কুল’ ৪৪৮ বছরের পুরনো। মজার ব্যাপার হলো এই স্কুলের প্রথম  থেকে যত ছাত্র ও শিক ছিলেন তাদের সবার রেকর্ড সংরণ করা আছে। তারা ফলোআপ করে এই স্কুলের কোন্ ছেলে কোথায় কী করছে, জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতি ও মানবসমাজের কল্যাণে কী অবদান রাখছে। এ থেকে বোঝা যায় পাশ্চাত্যের শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় খুব নিবিড়ভাবে না হলেও কিছুটা ফলোআপ সিস্টেম রয়ে গেছে। তাই আমি এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভাবছি যেখান থেকে আজকের মতো গতানুগতিক বা প্রচলিত কোনো ডিগ্রি না দিয়ে সেখান থেকে দেয়া হবে সমতুল ডিগ্রি বা ডিগ্রি ইকুইভ্যালান্ট। ছাত্রটিকে কর্মেেত্র যোগ দিতে হবে। এখানকার ছাত্রদের ডিগ্রি হবে বিএসসি ইকুইভ্যালেন্ট, এমএ বা এমএসসি ইকুইভ্যালেন্ট, পিএইচডি ইকুইভ্যালেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং বা এমবিবিএস ইকুইভ্যালেন্ট ইত্যাদি। যারা এখান থেকে ডিগ্রি ইকুইভ্যালেন্ট নিয়ে বের হবে তারা কর্মেেত্র একই মানের ডিগ্রিপ্রাপ্ত কারো চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন হবে না। উপরন্তু, এখান থেকে বের হওয়া ছাত্রদের ফলোআপের ব্যবস্থা থাকবে বা তাদের জ্ঞান আপগ্রেডের কর্মসূচি থাকবে। ফলে এরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একই মানের ডিগ্রিপ্রাপ্ত কারো চেয়ে থাকবে অগ্রগামী। আবার কর্মেেত্র গিয়ে এদের যদি নৈতিক অধঃপতন ঘটে, কেউ যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড়ে তাহলে তাৎণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় তার ডিগ্রি বাতিল করে দিতে পারবে। অন্য দিকে, সে যদি ভালো কোনো কাজ করে, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে অবদান রাখে তাহলে তাকে ডেকে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে।
আমি মনে করি এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কর্মেেত্র চাহিদা হবে ব্যাপক। সবাই জানবে এখানকার ছেলেগুলোকে ফলোআপ করা হচ্ছে, তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা কম, তারা জ্ঞানে জানাশোনায় অগ্রগামী। সরকারের একক চেষ্টায় সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করা অসম্ভব; কিন্তু এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় হলে সমাজ সহজেই অনেক পরিশুদ্ধিতা অর্জন করতে পারবে।
আবার বিশ্ববিদ্যালয় যখন ডিগ্রি ইকুইভ্যালেন্ট প্রদানের চিন্তা করবে তখন এখানকার কারিকুলাম তৈরি হবে বাস্তব জীবন ও সমাজের সাথে মিল রেখে। জীবনের সাথে যুক্ত করা হবে কারিকুলামকে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে বেশি। ফলে কারিকুলামও হবে সময়োপযোগী। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখি অর্থনীতিতে পিএইচডি করতে গিয়ে এমন অনেক বিষয় পড়তে হয়েছে যার বাস্তব প্রয়োগ কখনো দেখিনি। মরণোত্তর পুরস্কার দেয়া গেলে মরণোত্তর ডিগ্রি কেন দেয়া যাবে না?
পশ্চিমে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু এই ধ্যান ধারণার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। যেমনÑ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের এমন অনেক বরেণ্য ব্যক্তিকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে যারা জীবন সংগ্রামে অনবদ্য লড়াই করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং যারা এক সময় ছিলেন এখানকার ছাত্র। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে ডেকে নিয়ে ডিগ্রি দেয়া হয়; কিন্তু গত শতকে এরকম দুইজন ব্যক্তিত্বকে ডিগ্রি প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হয়। তাদের একজন হলেন পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো ও অন্যজন যুক্তরাজ্যের মার্গারেট থ্যাচার। ব্রিলিয়ান্ট প্রাইম মিনিস্টার অব ইংল্যান্ডকে অক্সফোর্ড বলেছিলেন, ‘শি ইজ নট ওয়ার্দি ডটার অব অক্সফোর্ড’। কারণ থ্যাচার শিা অনুদান কেটে দিয়েছিলেন। আর ভুট্টোকে দেয়া হয়নি তিনি পাকিস্তানের গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন বলে।
ক্যামব্রিজও একই নীতি অনুসরণ করছে। তাদের কোনো ছাত্র বিশ্বপর্যায়ে কোনো অর্জন পেলে তাকে ডেকে নিয়ে পিএইচডি দেয়া হয়। এই বিষয়গুলো আমাদের ল্েযর বাইরে রয়ে গেছে।
আমেরিকায় একজন এমডি বা ডাক্তার হতে গেলে খুব কঠিন একটা শিাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়; কিন্তু এরপরও যে ডিগ্রি তাকে দেয়া হয় তা কিন্তু সারা জীবনের জন্য নয়। মাত্র ১০ বছরের জন্য। ১০ বছর পর আবার তাকে বোর্ডের সামনে হাজির হয়ে সমসাময়িক চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্ঞানের পরীা দিতে হবে। আমাদের শিাব্যবস্থায় এটা পুরোপুরি অনুপস্থিত। এমনকি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো ছাত্র যদি বিশ্বপর্যায়েও কোনো কৃতিত্ব অর্জন করে, তবুও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তার কোনো খবর রাখে না। তাই আমি চাচ্ছি এমন এক শিাব্যবস্থা যেখানে কেউ ভালো কিছু করলে তার যেমন স্বীকৃতি দেয়া হবে তেমনি খারাপ কিছু করলে তার শাস্তি তথা ডিগ্রি বাতিলের ব্যবস্থাও থাকবে। শিাব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা সৃষ্টি করতে পারিনি।
আমার স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয় যমুনা নদীর কোলঘেঁষে সিরাজগঞ্জ শহরে গড়ে উঠতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে। সম্পূর্ণ ৯টি ভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমতি পেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি পাওয়ার অপোয়। পাঁচ একরের কিছু বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্য গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড টেকনোলজি। একজন ব্যক্তি তথা একটি পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে এটি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যেখানে রয়েছেন বিশ্বমানের ছয়জন পেশাগত দ ট্রাস্টি। এখানকার ছাত্রদের পড়াশোনার খরচের একটা বড় অংশই বহন করবে হাউজ অব মান্নান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। স্বল্প খরচে, কোনো কোনো েেত্র বিনা খরচে দেশের মেধাবী ছাত্ররা সেখানে পড়াশোনা করতে পারবেন। স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীদের সনদ বাতিলের মতা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সংরণ করবে আর সে রকম শর্তসাপেইে শিার্থীরা সেখানে ভর্তি হতে পারবেন। বাংলাদেশের ইউনিয়নপর্যায়ে প্রতিষ্ঠালগ্নে পাঁচ একরের বেশি জমির ওপর নিজস্ব ক্যাম্পাস উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সংলগ্ন এবং প্রতিটি জেলা থেকে ২০-৯০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যের নব্য ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং ওয়েলথের প্রায় অলস পড়ে থাকা আট শত বিলিয়ন মার্কিন ডলারকে আকৃষ্ট করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের পেশাগত দ জনশক্তি সরবরাহ করতে পারবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকপর্যায়ে দ জনশক্তির চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এর বাইরেও ওয়াকফ্ সম্পত্তি ও ক্যাশ ওয়াকফ্ ব্যবস্থাপনার জন্য দ জনশক্তি জোগান দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম হবে ইঞ্জিনিয়ারিং, মৎস্য, কৃষি, টেক্সটাইলস প্রভৃতি েেত্র বাস্তব জীবন ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে জীবনঘনিষ্ঠ গবেষণার েেত্র বিশেষ তহবিল। এখানকার শিার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত করা হবে যাতে তারা প্রথম থেকেই জীবনের চেয়ে বৃহত্তর ল্েয উদ্বুদ্ধ হতে পারে।
আসলে আমাদের সমাজে নীরব বিপ্লব ঘটাতে হলে শিাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এই ঢেলে সাজানোর অর্থ শিা কারিকুলাম পরিবর্তন নয়; সমাজ ও সংস্কৃতির আলোকে শিাব্যবস্থাকে বিন্যস্তকরণ। ওপরের চিন্তাধারা এ েেত্র বৈপ্লবিক হতে পারে। শিার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে অনানুষ্ঠানিক (নন ফরমাল) শিার মধ্য দিয়ে। আনুষ্ঠানিক শিার মান আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রশিতিকরণ (ডি-স্কুলিং দ্য সোসাইটি) করতে হবে। মাটি-মানুষ ও সংস্কৃতির সাথে শিাকে সমন্বিত করে উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তবেই সাধিত হবে নীরব বিপ্লব।
মানুষ ও সমাজের ধারা পরিবর্তনে উপযোগী ধ্যান ধারণার রূপায়ণ প্রথম দৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হতে পারে। প্রকৃতপে প্রতিষ্ঠান ছাড়া এরূপ ধ্যান ধারণার মৃত্যু স্বাভাবিক। আবার ল্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ লোকবল না থাকলে প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই দ্য গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড টেকনোলজি সৃজনশীল চিন্তাধারার বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে সঙ্কল্পবদ্ধ। এ জন্যই স্বল্পসংখ্যক মানুষ প্রয়োজন যারা হবেন জীবনের চেয়ে বৃহত্তর ল্েয নিবেদিত। বর্তমান দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘুণে ধরা আর্থসামাজিক প্রোপটে এই ধরনের মানুষের চরম অভাব অনুভব করছি। তবুও আমি আশাবাদী। নতুন এক শিাব্যবস্থা ও দরদি সমাজ গড়ে তোলার ল্েয আমাদের যাত্রা শুরু। তবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার কয়েকটি চরণ দিয়েই প্রবন্ধটি শেষ করছিÑ
‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।’
……………………………………..
যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরেÑ
তবে বজ্রানলে
আপন  বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে’

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক, জেদ্দা
E-mail: hmct2004@yahoo.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন